শ্রীলেখা মিত্র
‘আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র অভিযোগ করেছেন, একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি অনলাইনে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্টার হাতে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ ও মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করার অধিকারকে মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে মনে করেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় মতপ্রকাশের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিনেত্রীর দাবি, কলকাতায় একটি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাতে গিয়ে তিনি অজান্তেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিতর্কিত পোস্টার হাতে নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ভিডিও প্রকাশ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, চরিত্রহনন, শারীরিক গঠন নিয়ে বিদ্রূপ, অনলাইন হয়রানি এবং হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

শ্রীলেখা আরও অভিযোগ করেন, আরএসএসের এক নেতার বক্তব্যে প্রতিবাদী নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য নারীদের প্রতি বিদ্বেষকে উসকে দিতে পারে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি পোস্টার হাতে নেওয়ার ঘটনাকে কেন এত বড় অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ জুলাই কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। সেখানে শ্রীলেখা মিত্রের হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবমাননাকর ছবি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এরপর বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ আনন্দপুর থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম ইউনিটসহ একাধিক থানায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা করা হয়।

এর আগে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ওই পোস্টার হাতে নেননি। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তাকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়া অযৌক্তিক।
