৭০০ মেগাহার্টজ ‘গোল্ডেন ব্যান্ড’ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ছক!
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের ঝড় উঠেছে। আগামী ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৫জি স্পেক্ট্রাম নিলামে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের জন্য এক কিলোহার্টজও ফ্রিকোয়েন্সি রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিটিআরসি এই ব্যান্ডের মোট ৪৫ মেগাহার্টজের মধ্যে প্রথমে ২৫ মেগাহার্টজ এবং পরে বাকি ২০ মেগাহার্টজ সম্পূর্ণ নিলামে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি বিটিআরসি ও সব অপারেটরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় একটি বিদেশি মোবাইল কোম্পানি প্রকাশ্যে টেলিটকের জন্য কোনো ফ্রিকোয়েন্সি না রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এ ঘটনাকে অনেকে বিদেশি অপারেটরদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
৩জি ও ৪জি চালুর সময় জনস্বার্থে টেলিটককে স্পেক্ট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হলেও ৫জি যুগে তাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার এ সিদ্ধান্তে সচেতন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা শুধু টেলিটকের জন্য নয়, গ্রাম-গঞ্জের লাখ লাখ মানুষের জন্যও মারাত্মক ক্ষতি। কারণ ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড দিয়ে অল্প বিটিএস-এর মাধ্যমে বিশাল এলাকা কভার করা যায় – যা টেলিটকের মতো কম বিনিয়োগে বেশি এলাকা কভার করা অপারেটরের জন্য অপরিহার্য।
টেলিটক দেশে মোবাইল সেবার দাম কমানোর পথিকৃৎ। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর প্রতি মিনিট কলরেট ৩ টাকা নির্ধারণ করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দাম কমাতে বাধ্য করেছিল। দুর্গম পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকায় সরকারি নির্দেশে নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিয়েছে। অনলাইন বিদ্যুৎ বিল, ভর্তি ফি, চাকরির আবেদনসহ জনকল্যাণমূলক ডিজিটাল সেবায় এগিয়ে আছে।
বেসরকারি অপারেটররা ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও টেলিটক মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েই সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যখনই টেলিটক নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে, তখনই তাকে এভাবে গলা টিপে ধরার অভিযোগ উঠেছে। বিটিএস সংখ্যায় অন্য অপারেটরদের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ থাকার পরও টেলিটক এই ব্যান্ড না পেলে ৫জি যুগে পুরোপুরি ছিটকে পড়বে।
আরো পড়ুন : দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘লেডভ্যান্স’
টেলিকম বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তকে “টেলিটকের মৃত্যুদণ্ড স্বাক্ষর” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, এর ফলে দেশে বিদেশি অপারেটরদের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মোবাইল সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে টেলিটকের জন্য ন্যূনতম ফ্রিকোয়েন্সি সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন। প্রশ্ন একটাই – রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিদেশি কোম্পানির পকেটে তুলে দিয়ে কি দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে? নাকি টেলিটককে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে?
