×

মুক্তচিন্তা

নিয়াজ জামান সজীবের লেখা

ঘুম-নির্ঘুম

Icon

নিয়াজ জামান সজীব

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

ঘুম-নির্ঘুম

ঘুম-নির্ঘুম

ঘুম। শান্তির ঘুম। শেষ ঘুম। ঘুমের দেশের যাত্রা। ঘুম আয়, ঘুম আয়। ঘুমের জন্য কত চেষ্টা। অসুস্থ হলে বোঝা যায় ঘুম কতটা জরুরি। ঘুম না হলে মেজাজও খিটখিটে থাকে। শুধু প্রেমে পড়লেই কোনো কাজে মন বসে না। তা নয়, ঘুম না হলেও কোনো কাজে মন বসে না। যদিও প্রেমিক বা প্রেমিকার জন্য বহু নির্ঘুম রাত কেটে যায়। ঘুম - নির্ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন। যদিও অনেকের সামান্য শব্দ এবং আলোতেই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

মানুষের কোন অঙ্গটি প্রথমে ঘুমিয়ে পড়ে সহজে বলা যায় না। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে শরীরের ও পেশিগুলো শিথিল হয়ে হৃৎস্পন্দন কমে যায়। যেতও আস্তে আস্তে কার্যক্রম কমিয়ে দেয়। একটা সাউন্ড স্লিপের জন্য কী যে আকুতি শরীরের অঙ্গগুলোর! তবে মস্তিষ্ক কখনো ঘুমায় না। এ এক আজব অঙ্গ। ভালোবাসার মানুষ নাকি মওে গেলেও জেগে থাকে। তেমনি মস্তিষ্ক সবসময়ই নির্ঘুম থাকে। 

ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে গুম আসলে আগে হাত মুখ ধোয়ার সময় অজু করে নিতে হবে। এতে আপনার লাভ হলো রসুল (সা.)-এর একটি সুন্নতও আদায় হয়ে যাবে। সম্ভব হলে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে বিছানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে শুয়ে পড়তে পারেন। ডান কাতে শুয়ে দোয়া পড়তে পারেন। সারাদিনের ভুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। অন্য ধর্মের লোকেরাও ঘুমের আগে পরিষ্কার বিছানায় নিজেকে সমর্পণ করে। অনেকে মন্ত্র জপেন, কেউ আবার ইশ্বরকে ডাকেন। 

স্লিপিং পিলের ওপরে নির্ভর না করে প্রতিদিন ৩০ মিনিট সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকলে, তা ভালো ঘুমের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে চা, কফি বা নিকো টিন জাতীয় কিছু সেবন করলে নির্ঘুম রাত কাটার সম্ভাবনা বেশী। তবে অনেকেই নাকি রঙিন তরল পান করেন দু:খ ভুলে ঘুমের জগতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। এ এক আজব জগৎ। লাল-নীলের ফ্যান্টাসি। আমার পরিচিত একজন সেদিন ফেসবুকে লিখেছেন- ঢাকা শহরে বৃহস্পতিবার রাতে যেমন বারগুলোতে জায়গা পাওয়া যায় না। আবার শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময়ও মসজিদে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়। তবে, শুক্রবার যত মানুষ নামাজ আদায় করেন, তার ৭০ ভাগ লোক যদি নিয়মিত এই কাজটি করতেন, তবে, সওয়াবের পাশাপাশি তাদের ভালো ঘুম হতো। 

ঘুমের গল্প মানে অন্যেও স্বপ্নের কথা খুব কম লোক শুনতে চায়। কারণ সবারই নিজের ঘুমের মধ্যে নানা স্বপ্নের যাওয়া -আসা থাকে। নির্ঘুম সে সব রাতের কথা গল্পে-কবিতায় হৃদয়ের দাগ ফেলা অনুভবে বেঁচে থাকে। দেশে-দূর দেশে সে ভাবনা ঘুরে বেড়ায়। চাতকের কি আর ঘুমের দেশে গেলে চলে? সে তো চেয়ে থাকে তার পরম পূজনীয়-আরাধ্যকে বাস্তব করে পেতে। ঘুম কখনো একা আসে না। সে আসে নানা দু:দুশ্চিন্তা নিয়ে। জীবনের শত হিসাব মেলানোর সময় বুঝি ঘুমের দরজায় কড়া নাড়ে। নিজের না বলা কথা ঘুমের ঘোরে বিড়বিড় করে মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে। অস্ফুট অনেক আর্তনাদ ঘুমের ঘোওে জীবন্ত হয়। র্নিঘুম সে শব্দেরা এক হয়ে গোল টেবিল বৈঠক করে। রাজা-উজির মেরে কখনো ঘুমের দেশে হারিয়ে যায়? কখনো আবার ভোর হয় অনিচ্ছার কদম ফুলের বহমানতায়। 

ঘুম না হলে হৃদয়ের রোগ হয়। কিন্তু হৃদয় তো মানতে চায় না। প্রেম যখন অন্যের হাত ধরে তখন আর চোখকে ধরে রাখা যায় না। ঘুম শরীরের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে দেয়। আবার প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয়ের সবচেয়ে প্রাকৃতিক মাধ্যম হলো ঘুম। ঘুম না হলে শরীরে লিভিং অরগানিজমগুলো কাজ করতে পারে না। আবার ঘুম না হলে অন্য অরগাজমের সব উপাদান এসে ভিড় করে। আবার নির্ঘুম রাত কাটিয়েও জীবনকে উপভোগ করেন কেউ। বৃষ্টির রাতে বা শীতের কুয়াশায় উদাস মনের কি আর চোখ বুজতে ইচ্ছে করে?

ঘুম কিন্তু মিষ্টি বা তিতাও হয়। এই যেমন ছোটোবেলায় নানা বা নানি বাড়ির ঘুম হয় মিষ্টি। বহুদিন পর গ্রামের বাড়ি গেলে সে ঘুমও হয় মধুর মতো। মায়ের হাসির মতো ঘুম হেসে বলে, আয় আমার কাছে। অনেকের আবার একই মানুষের সাথে ঘুমাতে ঘুমাতে মনে হয় এই ঘুম বুঝি তেতো হয়ে যাচ্ছে। তবে, অনিচ্ছায় যখন কারো সাথে ঘুমাতে হয় তা তো তো হবেই। অসুস্থতার কারণেও ঘুম তিতা হয়। 

কবি ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ সুফিয়া কামালের লেখা ছড়া - ছোটন ঘুমায়। এখানে তিনি লিখেছেন- গোল কোরো না, গোল কোরো না, ছোটন ঘুমায় খাটে। এই ঘুমকে কিনতে হলো নওয়াববাড়ির হাটে। সোনা নয়, রুপা নয়, দিলাম মোতির মালা, তাই তো ছোটন ঘুমিয়ে আছে ঘর করে উজালা। আসলেই বেহেশতের শিশুদের ঘুমের মূল্য অসীম। রুপক অর্থে কবি ছোট শিশু ছোটনের কথা বললেও বড়োদের ঘুমের মূল্যও কিন্তু কম নয়। কেউ কোটি টাকার খাটে শুয়েও ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। নির্ঘুম রাত পার করে। লাখ টাকার ওষুধেও কাজ হয় না। আবার পথের ধারে কত শব্দ, আলোর মাঝে শান্তির ঘুম দিচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। কাওরান বাজারে মিনতিরা যখন ঝুড়িতে ঘুমিয়ে পরেন। সে এক ঐশ্বরিক ঘুম। তাদের ঘরের সব জানালা-দরজা উজালা থাকে। প্রতিদিনের জন্য এই বেঁচে থাকার দৃশ্য চিরন্তন। তাদের ঘুম কিনতে লাগে না কোনো পয়সা।

যুদ্ধ ও ক্ষুধার কারণে কত মানুষ নির্ঘুম থাকেন। জাতিসংঘ ও অক্সফাম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ কোটি মানুষ প্রতি রাতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যায়। তাদের কি ঘুম ঠিকমতো হয়? নাকি ঘুম বিলাসীদের মতো নির্ঘুম রাতের তারা গুণে সকালের জন্য অপেক্ষা করে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ এই যে না খেয়ে আছে তার খোঁজ কে রাখে। তাদের নির্ঘুম অনেক রাতের কথা যেমন কেউ শোনে না। তেমনি এই পৃথিবীতে হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল অনেকের কথাই শোনার কেউ নাই। আবার রাজনৈতিক দল ক্ষমতার বাইরে থাকলে তাদের নেতা-কর্মীদের জেলে, পলাতক, ফেরারী অবস্থায় বহু নির্ঘুম রাত কাটে। এভাবে একদিন হয়ত কেউ কেউ ঘুমানোর জন্য ক্ষমতার আশেপাশে অথবা ক্ষমতাবান হয়। তখন আবার আরেক চিন্তা। ক্ষমতার উত্তাপে পুড়ে যায় বহু রাত। ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা তো আছেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু অপতথ্যের দোর্দণ্ড প্রতাপে বহু লোকের সম্মানহানি, পাশাপাশি ঘুমও হারাম হয়ে যায়। 

যে নির্ঘুম সময় চলে যায়। তা বহু ব্যথা নিয়ে যায়। আবার রেখেও যায়। তাইতো ঘুম আর নির্ঘুম সময়ের এই খেলা চলে নিয়ত। যার জীবনে ঘুম জিতে যায় তার সময় হয় স্বর্ণময়।

লেখক: সাংবাদিক

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইসলামাবাদ হয়ে ওমান ও রাশিয়া যাবেন আরাঘচি

ইসলামাবাদ হয়ে ওমান ও রাশিয়া যাবেন আরাঘচি

ঝরাফুলের পিতা

দিভাস কৃষ্ণ বিশ্বাসের ছোটগল্প ঝরাফুলের পিতা

জাতীয় ইস্যু আড়াল করতে ফেক স্ক্রিনশট সামনে আনা হয়েছে

রাকসু জিএস জাতীয় ইস্যু আড়াল করতে ফেক স্ক্রিনশট সামনে আনা হয়েছে

ঘুম-নির্ঘুম

নিয়াজ জামান সজীবের লেখা ঘুম-নির্ঘুম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App