তাপদাহে বাড়ছে হিট স্ট্রোক, বাঁচতে যা করবেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছে মানুষজন। তাপদাহ যেন দিন দিন আরো তীব্র হয়ে উঠছে। এ সময়ে ছোট-বড় সবার মধ্যেই বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রবণতা বাড়ছে। প্রচণ্ড রোদের কারণে অনেকেই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সেটিকেই হিট স্ট্রোক বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিট স্ট্রোক এক ধরনের হাইপারথার্মিয়া। এখানে ‘হাইপার’ মানে অতিরিক্ত এবং ‘থার্মিয়া’ মানে তাপ। আমাদের শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলে সবসময় তাপ উৎপন্ন হয়।
সাধারণত ঘামের মাধ্যমে সেই তাপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ঘামের সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। একই সঙ্গে ঘামের মাধ্যমে লবণ বের হয়ে যাওয়ায় শরীরে লবণের ঘাটতি দেখা দেয়, যা শরীরকে দুর্বল ও ক্লান্ত করে তোলে।
এর ফলে অনেকের মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং স্থূলতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে।
আরো পড়ুন : ভ্যাপসা গরমে ঘামের অস্বস্তি থেকে মুক্তির উপায়
হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়
পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি
গরমে শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই তৃষ্ণা লাগার আগেই অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন। প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস বা তার বেশি পানি পান করার চেষ্টা করুন।
ওআরএস, ডাবের পানি ও লবণযুক্ত পানীয় গ্রহণ করুন
ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়। তাই ওআরএস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা সামান্য লবণ মিশ্রিত পানি শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন
সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় বাইরে না যাওয়াই ভালো। জরুরি হলে ছায়াযুক্ত পথে চলুন।
হালকা, ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন
সুতির কাপড় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গাঢ় রঙের কাপড় তাপ বেশি শোষণ করে, তাই হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন।
ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন
সরাসরি সূর্যের আলো থেকে মাথা ও চোখ রক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ঠান্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন
ঘরে ফ্যান, এসি বা ভালো বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। অতিরিক্ত গরমে মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ-হাত ধুয়ে নিন।
বাইরে কাজ করলে নিয়মিত বিরতি নিন
যারা বাইরে কাজ করেন, তারা কিছুক্ষণ পরপর ছায়ায় বিশ্রাম নিন। একটানা রোদে কাজ করলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
খাবারে সতর্কতা বজায় রাখুন
ভারী, তৈলাক্ত ও ঝাল খাবার কম খান। এর বদলে হালকা, সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, সবজি, ডাল ইত্যাদি গ্রহণ করুন।
পানিযুক্ত ফল বেশি খান
তরমুজ, শসা, কমলা, আনারস, ডাবের পানি—এসব শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং পানির ঘাটতি পূরণ করে।
শরীরের লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন
মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব বা শরীর খুব গরম হয়ে যাওয়া—এসব হিট স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিন এবং পানি পান করুন।
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বাড়তি যত্ন নিন
শিশু, বয়স্ক এবং স্থূলতায় ভোগা মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাদের রোদে কম বের হতে দিন এবং নিয়মিত পানি পান করান।
অবস্থা গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন
কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে বা শরীরের তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিন। সময়মতো চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে পারে।
