৮০০ কোটির পৃথিবী
জনসংখ্যা বৃদ্ধি বনাম টেকসই ভবিষ্যতের লড়াই
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এটি কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং অধিকারের এক বিশাল কোলাজ। ৮০০ কোটিরও বেশি মানুষের এই গ্রহে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি যেমন বিশ্বনেতাদের ভাবিয়ে তুলছে, তেমনই জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদ বণ্টন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য এই আলোচনাকে আরো জটিল করে তুলেছে।
এক সময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণই ছিল এই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দৃষ্টিভঙ্গির এক আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এখন জোর দেয়া হচ্ছে জনসংখ্যাকে ‘জনসম্পদে’ রূপান্তর করার ওপর। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমাদের জনসংখ্যায় তরুণদের সংখ্যাধিক্য বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ রয়েছে। কিন্তু এই তরুণ সমাজকে যদি মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়া না যায়, তবে এই আশাবাদ জনসংখ্যা সংকটে রূপ নিতে পারে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লিঙ্গসমতা এবং নারী অধিকার নিশ্চিত করা। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের শিক্ষা ও প্রজনন স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করলে তা পরোক্ষভাবে একটি সুস্থ ও পরিকল্পিত জনসংখ্যা গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। কন্যাশিশুর বাল্যবিয়ে রোধ এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু তাদের নিজেদের জীবনকেই উন্নত করে না, বরং পুরো সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করে।
মূল চ্যালেঞ্জ : বর্তমান বিশ্বের মূল সংকট জনসংখ্যার আধিক্য নয়, বরং সম্পদের অসমান বণ্টন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে আমাদের এত বিপুল জনগোষ্ঠীর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এবং চিকিৎসার জোগান দিতে হবে। তাই জনসংখ্যা নীতি হতে হবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়। এটি একটি অঙ্গীকারের দিন, যেখানে প্রতিটি মানুষের অধিকার এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে। জনসংখ্যাকে বোঝা না ভেবে সুপরিকল্পিত বিনিয়োগের মাধ্যমে একে সম্পদে পরিণত করাই হোক আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।
