দেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে টানা তিন জয় ফ্রান্সের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি হয়ে থাকল উসমান দেম্বেলের। মাত্র ৩২ মিনিটে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। তার বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘আই’ গ্রুপে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সময় ১টায় বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। প্রথম মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করেন এমবাপ্পে। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নেয়া তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি দলটিকে। সপ্তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এমবাপ্পের বাড়ানো বল ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে তিন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন দেম্বেলে। ২০তম মিনিটে আবারো এমবাপ্পের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের বাইরে বাঁ পায়ের দারুণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
এক মিনিট পরই থেলো আসগার্ড গোল করে নরওয়েকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দিলেও সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩২তম মিনিটে অরেলিয়েন চুয়ামেনির পাস ধরে বক্সে ঢুকে আরো এক নিখুঁত শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক। একইসঙ্গে ম্যাচের শুরু থেকে ৩২ মিনিটের মধ্যে করা এই হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপের গত ৭২ বছরের মধ্যে দ্রুততম। ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় ফুটবলারও হলেন তিনি।
প্রথম দুই ম্যাচে ৪ গোল করা এমবাপ্পে এদিন গোল না পেলেও দেম্বেলের প্রথম দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন। শেষ দিকে যোগ করা সময়ে ব্রাডলি বারকোলার ক্রস থেকে হেডে দলের চতুর্থ গোল করেন দেজিরে দুয়ে। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল। প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় দুই দলেরই নকআউট নিশ্চিত ছিল। তাই এই ম্যাচ ছিল মূলত গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই। তবে নরওয়ের কোচ দল সাজিয়েছিলেন অনেকটা পরীক্ষামূলকভাবে। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে ১০টি পরিবর্তন আনা হয়। ৪ গোল করা আর্লিং হলান্ডকে পুরো ম্যাচই বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। বিশ্রাম দেয়া হয় আরো কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান কমানোর বড় সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। অস্কার বব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় দলটি। কিন্তু ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনের দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নরওয়ে। এই জয়ে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। ছয় পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে নরওয়ে। শেষ ৩২ এ নরওয়ের প্রতিপক্ষ ‘ই’ গ্রুপের রানার্সআপ আইভরি কোস্ট। অন্যদিকে ফ্রান্স খেলবে সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর একটির বিপক্ষে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে টরন্টোতে ইরাককে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সেনেগাল। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইরাকের রেবিন সুলাকা লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণে বড় জয় তুলে নেয় আফ্রিকার দলটি। তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে সেনেগাল। পাঁচ গোলের এই জয়ে তাদের গোল ব্যবধানও উন্নত হয়েছে। এখন সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে শেষ ষোলোতে ওঠার জন্য অন্য গ্রুপগুলোর ফলের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদের।
