কোয়ার্টার ফাইনালের পথে মেসির সামনে আজ সালাহ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কোয়ার্টার ফাইনালের দোরগোড়ায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ ষোলোয় আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিসরের বিপক্ষে আজ মঙ্গলবার রাত ১০টায় নামার আগে সহজ সমীকরণে নেই লিওনেল স্কালোনির দল। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নেয়া ম্যাচের ক্লান্তি, চোটের ঝুঁকি এবং কৌশলগত জটিলতা মিলিয়ে আর্জেন্টিনার সামনে এটি এখন একটি সতর্কতার ম্যাচ- যেখানে সামান্য ভুলই স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে।
আর্জেন্টিনা শুরুতে দারুণ ছন্দে থাকলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে তাদের রক্ষণ ও মাঝমাঠে স্পষ্ট দুর্বলতা ধরা পড়ে। ম্যাচে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই, তীব্র গরম এবং শারীরিক চাপ মিলিয়ে স্কালোনির শিষ্যরা এখন ক্লান্ত। এনজো ফার্নান্দেস, রদ্রিগো দে পল, নিকোলাস টাগলিয়াফিকোসহ কয়েকজন খেলোয়াড় পেশির টান ও ক্লান্তিতে ভুগছেন। ফলে মিসরের বিপক্ষে একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে কোচের।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আক্রমণভাগে। লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ- দুজনই এখনো পুরোপুরি ধারাবাহিক নন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে লাউতারো শুরু থেকে খেললেও গোল পাননি, আবার বদলি হিসেবে নেমে আলভারেজও ম্যাচে বড় প্রভাব রাখতে পারেননি। তাই মিসরের বিপক্ষে কে শুরু করবেন, সেটি এখনো অনিশ্চিত। স্কালোনি আক্রমণে নতুন ভারসাম্য খুঁজছেন, যাতে মেসির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
মাঝমাঠে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আরো স্পষ্ট। থিয়াগো আলমাদা গত ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাই তার জায়গায় অভিজ্ঞ লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে দেখা যেতে পারে, যা মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ ও খেলার গতি বাড়াবে। অন্যদিকে নিকোলাস গনসালেস খেললে আক্রমণ আরো গতিময় ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আর্জেন্টিনার ম্যাচের ধরন- নিয়ন্ত্রিত ফুটবল নাকি উচ্চচাপের আক্রমণ।
রক্ষণভাগেও দুশ্চিন্তা কম নয়। বাম দিকে টাগলিয়াফিকো পুরো ফিট না হলে ফ্যাকুন্দো মেদিনা আবার সুযোগ পেতে পারেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ডিফেন্সে যে অস্থিরতা দেখা গেছে, সেটি মিশরের মতো সংগঠিত ও দ্রুতগতির দলের বিপক্ষে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কাউন্টার অ্যাটাকে মিসরের দক্ষতা আর্জেন্টিনাকে সতর্ক রাখবে।
অন্যদিকে মিসর এই ম্যাচকে দেখছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ হিসেবে। তারা রক্ষণভিত্তিক হলেও কাউন্টার অ্যাটাকে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে তাদের দ্রুত ট্রানজিশন এবং শৃঙ্খলিত ডিফেন্স আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সালাহদের মতো অভিজ্ঞরা সুযোগ পেলেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
স্কালোনি নিজেও বুঝছেন ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি প্রকাশ্যে সূচি ও বিশ্রামের সময় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নকআউট পর্বে আরো বেশি রিকভারি সময় থাকা উচিত ছিল। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলাকে তিনি ‘অযৌক্তিক চাপ’ হিসেবে দেখছেন। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার হলেও এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই এখন আলাদা ফাইনালের মতো। মিসরের বিপক্ষে জয় মানে শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, বরং শিরোপা অভিযাত্রায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া।
আর্জেন্টিনা যেখানে শিরোপার স্বপ্নে এগোচ্ছে, সেখানে মিসর নামছে ইতিহাস বদলানোর মিশনে। একদিকে মেসির নেতৃত্বের শেষ অধ্যায় লেখার লড়াই, অন্যদিকে আফ্রিকার নতুন শক্তির উত্থান। মঙ্গলবার রাত তাই কেবল একটি ম্যাচ নয়- এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যেখানে জয় নির্ধারণ করবে স্বপ্নের পথচলা, আর পরাজয় লিখবে অপ্রত্যাশিত বিদায়ের গল্প।
