৩৪ রানের জয়
সাইফ-রিশাদে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশ পেল দলীয় পারফরম্যান্সের দুর্দান্ত এক প্রদর্শনী। শুরুতে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসানের শতরানের উদ্বোধনী জুটি, ইনিংসের শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের চার ছক্কার ঝড় এবং পরে রিশাদ হোসেনের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং- এই তিন অধ্যায়ে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল শুক্রবার হারারের স্পোর্টস ক্লাবে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন দুই ওপেনার। সাইফ হাসান একাধিক জীবন পেলেও সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ৪৫ বলে ৫৫ রান করেন। অন্য প্রান্তে আরো স্বচ্ছন্দ ছিলেন তানজিদ হাসান। বাঁহাতি এই ওপেনার ৪৪ বলে ৫৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১২০ রান, যা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি।
তবে এই জুটি ভাঙতেই হঠাৎ ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৩ বলের মধ্যে ফিরে যান সাইফ হাসান, তানজিদ, তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও নুরুল হাসান সোহান। একসময় মনে হচ্ছিল, ১৮০ রানও হয়তো ছোঁয়া হবে না। ঠিক তখনই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সকে টানা চার বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে বুলাওয়েওর আকাশ আলোকিত করেন তিনি। স্কয়ার লেগ, মিডউইকেট ও ফাইন লেগ- মাঠের চারদিকে ছড়িয়ে দেয়া সেই চার ছক্কা শুধু বাংলাদেশের রানই বাড়ায়নি, ইতিহাসও লিখেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের টানা চার ছক্কার ঘটনা এটিই প্রথম। মাত্র ১০ বলে অপরাজিত ৩১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৩১০। ইয়াসির আলিও শেষদিকে ১২ বলে ২২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই শেখ মেহেদি হাসান ফিরিয়ে দেন টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন ব্রায়ান বেনেটকে। এরপর শেখ মেহেদি বিদায় করেন ডিওন মায়ার্সকে। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রিশাদ হোসেন। একাদশে ফিরে লেগস্পিনার জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা, মিল্টন শুম্বা, রায়ান বার্ল ও মুসেকিওয়াকে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবার চার উইকেট নেন তিনি। ৩.৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং।
শেখ মেহেদি নেন ৩ উইকেট। যদিও ম্যাচের শেষদিকে নাহিদ রানার পিঠে চোটের শঙ্কা কিছুটা উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাংলাদেশের শিবিরে। ব্যাট হাতে ঝড়ো ইনিংস ও বল হাতে কার্যকর চার ওভারের সুবাদে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তার দ্বিতীয় ম্যাচসেরা পুরস্কার, প্রথমটিও ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই।
প্রথম ম্যাচে হারের পর এই জয় শুধু সিরিজে সমতা ফেরায়নি, বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন রবিবারের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিই নির্ধারণ করবে সিরিজের ভাগ্য। যদি ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা আর বোলিংয়ের এই ছন্দ ধরে রাখা যায়, তবে সিরিজ জয়ের হাসিও হাসতে পারে বাংলাদেশ।
