ধর্মেন্দ্র প্রধান মাস্ট রিজাইন, মোদির উদ্দেশে ‘ককরোচরা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: ইন্টারনেট
মিলিতা বাড়ৈ মুন্নি
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার দ্রুত করার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনকি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একাধিকবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এ বিষয়গুলোকে পাত্তা দিচ্ছে না সিজেপি। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে, তারপর হবে আলোচনা। এমন পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ককরোচরা।
এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে খুবই অস্থির সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তার গলার কাটা হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে বিরোধীদলগুলো। এই আন্দোলনকে হাতিয়ার করে মোদি সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে তারা। ইতোমধ্যে এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, শিবসেনাসহ (ইউবিটি) বিভিন্ন বিরোধী দল।
গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সংসদ ভবনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বৈঠক শেষে সংসদ সদস্য কংগ্রেস নেতা বেনুগোপাল জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত মোদির ডাকা কোনো আলোচনায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সব বিরোধী দল। বেনুগোপাল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি স্পিকার ওম বিড়লাকে জানিয়েছি।’ মোদি সরকারের আলোচনার প্রস্তাবে এমনটি জানিয়েছে তারা।
পরিস্থিতি সামল দিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে প্রথমবারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন মোদি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। এটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের নেয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের একটি অংশ। আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ যারা নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’
তবে মোদির দেয়া এই আশ্বাসে চিড়ে ভেজেনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। মাত্র চার শব্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা। সেটি হলো, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান মাস্ট রিজাইন’। অর্থাৎ ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।
এ বিষয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কটাক্ষ করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবি দিয়ে একটি মিম পোস্ট করেন। যেখানে লেখা ছিল, ‘হাই, আমার নাম নাথিং (কিছুই নয়)।’
অপরদিকে মোদির তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন বিরোধী দলীয় নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আপনিই (মোদি) আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করতে দিয়েছেন। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের সবাইকে রক্ষা করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি খুবই পরিষ্কার- (শিক্ষামন্ত্রী) ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন। শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। যারা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। আজ ভারতজুড়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় সিজেপি বলেছে, ‘পুরো সমাবেশের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো উচ্চ স্বরে পড়ে শোনান। অনুমতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর জন্য ছাত্র সংগঠন ও অন্য সংগঠনগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
মূলত গত বুধবারও বৃষ্টি উপেক্ষা করে যন্তর মন্তরে তীব্র আন্দোলন হয়েছে। এদিন সন্ধ্যার পর থেকে যন্তর মন্তরে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এই সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ফলে যন্তর মন্তর থেকে মানুষের ভিড় আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে।
দিল্লি পুলিশের বরাতে ভারতের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে দাবি করে, বুধবার গভীর রাতে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও প্লাস্টিকের বোতল ছুড়ে মারেন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়।
এক্সে (সাবেক টুইটার) স্থানীয় কিছু সাংবাদিকসহ অন্যদের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট কিছু দলের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সংঘর্ষ হচ্ছে। সেখানে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করছে এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। বৃহস্পতিবারও আন্দোলনের ধারা অব্যাহত ছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ককরোচদের এই আন্দোলনে
সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসছে। কেউ চায়ের দোকান খুলেছেন, কেউ রান্না করা খাবার আনছেন, কেউ ফল এনে বিলি করছেন বিনা পয়সায়। দেশের বিভিন্ন শহর, এমনকি বিদেশ থেকেও অজ্ঞাত পরিচয়ে খাবার আসছে যন্তর মন্তরে। সুইগি, জোম্যাটো, ফুড পান্ডার মতো বিভিন্ন খাবার ডেলিভারি সংস্থাকে অর্ডার দিচ্ছে তারা।
এমন পরিস্থিতিতে একটাই প্রশ্ন সামনে আসছে- ককরোচদের শান্ত করতে মোদি কেন শিক্ষামন্ত্রীকে সরাচ্ছেন না? কিংবা ধর্মেন্দ্র প্রধানের খুঁটির জোর কোথায়? ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান ওডিশার রাজনীতিবিদ। তিনি শুধু শিক্ষামন্ত্রীই নন, তিনি মোদি-শাহর অতি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সঙ্গী ও রাজনৈতিক কুশলী। কয়েক বছর ধরে মোদি-শাহর নির্বাচনী কৌশল রূপায়ণের অন্যতম প্রধান কারিগর তিনিই। ওডিশায় দীর্ঘ আড়াই দশকের বিজু জনতা দলের (বিজেডি) মৌরসিপাট্টার অবসান বিজেপি ঘটিয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সামনে রেখেই।
ওডিশার পর বিহার, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশেও ধর্মেন্দ্রই ছিলেন মোদি-শাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভোট-কুশলী। এটা তার সবচেয়ে শক্তি। তাকে অপসারণের অর্থ শুধু একজন শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া নয়, এক অতি বিশ্বস্ত অনুচরকে শাস্তি দেয়া। সেই ঝুঁঁকি মোদি-শাহ নিতে চান না। এটা দ্বিতীয় কারণ।
তৃতীয়ত, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়ার অর্থ হবে সরকারি ব্যর্থতা স্বীকার করে নেয়া। ছাত্রসমাজ ও বিরোধীরা নিট নিয়ে যে দাবি জানিয়ে চলেছে, তা শুধু একটি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দুটি সরকারি প্রকল্পও। প্রথমটি ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইটি) ও দ্বিতীয়টি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। এনটিএ করা হয়েছিল প্রবেশিকা পরীক্ষা কেন্দ্রীভূত করার উদ্দেশ্যে।
যখনই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে, তখনই সরকার পরীক্ষা বাতিল করেছে, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআই বা বিশেষ দল গড়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কিংবা শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রæতি দিয়েছে। কিন্তু কখনো শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করেনি। সরকারও দায় নেয়নি। কাজেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করলে অন্য বার্তা দেয়া হবে- রাজনৈতিক ব্যর্থতা স্বীকার করা হবে, দুর্বলতা প্রকাশ করা হবে। সরকার তাতে নারাজ।
চতুর্থত, ধর্মেন্দ্র প্রধান হলেন পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান অনগ্রসর নেতা। ওডিশা ও বিহার জয়ে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্রাহ্মণ্যবাদী বিজেপির বহর ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ মারফত ভারতের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে অনগ্রসর যেসব নেতার অবদান অনস্বীকার্য, ধর্মেন্দ্র প্রধান তাদের অন্যতম। পূর্ব ভারতের অ-যাদব অনগ্রসর ও অতি অনগ্রসরদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারে ধর্মেন্দ্রর ভূমিকা ও অবদান কতটা, মোদি-শাহর তা জানা।
ধর্মেন্দ্রকে অপসারণের অর্থ হবে সব দায় ধর্মেন্দ্রর ঘাড়ে চাপানো এবং অনগ্রসর সমাজকে আহত করা। তাতে দেশের পূর্বাঞ্চলে অনগ্রসর ও অতি অনগ্রসরদের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা নষ্ট হবে। গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে। সামাজিক মেরুকরণ নষ্ট হবে। সেই ঝুঁকি মোদি নিতে নারাজ।
পঞ্চমত, নরেন্দ্র মোদির বিজেপি মনে করে, মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন, কে বাদ যাবেন, তা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। বিরোধীরা বা অন্য কেউ তা ঠিক করতে পারে না। সরকারকে বাধ্য করতে পারে না। ছাত্রসমাজ সেই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। কংগ্রেসসহ সব বিরোধী দলও এই আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবি সমর্থন করছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়। নাগরিক সমাজেও ক্ষোভ বাড়ছে।
আনন্দবাজার সূত্রে জানা গেছে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের অন্তত চারবার আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘যেকোনো সময়ে আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। সরকার চারবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভকারীদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমাদের বার্তা, সমস্ত বিষয় নিয়ে আপনাদের সুবিধামতো যেকোনো সময়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত সরকার। আমি আপনাদের সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, আসুন, আলোচনায় বসুন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডার বাড়ি বা অফিসে বৈঠক হতে পারে। নড্ডা এবং আমি সেখানে থাকব। আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমরা একটা সমাধানের দিকে এগোব।’ শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ করছে বলে জানান জিতেন্দ্র। এই আলোচনার আহ্বানও তার একটি অঙ্গ।
এদিকে বিক্ষোভ দমনে বুধবার সকাল থেকে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, মান্ডি হাউস, আইটিও এবং খান মার্কেটসহ দিল্লি মেট্রোর ১৬টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া উত্তেজনা কমাতে রাজধানী দিল্লির সেন্ট্রাল ও মধ্যবর্তী এলাকাগুলোতে সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
মূলত এই পরিস্থিতির সূত্রপাত গত মে মাসে। ওই সময় এক শুনানিতে ভারতীয় বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যারা কোনো চাকরি পান না কিংবা পেশাগতভাবে কোথাও দাঁড়াতে পারেন না। তাদের কেউ কেউ গণমাধ্যমকর্মী বনে যান, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হন, আবার কেউ তথ্য অধিকারকর্মী বা অন্য কোনো ধরনের অ্যাকটিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করেন।’ যদিও পরে প্রধান বিচারপতি দাবি করেন, তিনি ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য দিয়েছিলেন। তবে ততক্ষণে জল গড়িয়েছে বহুদূর।
প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্যে বেশ অপমানিত বোধসহ আঘাত পান তরুণরা। তারা ক্ষোভ উগড়ে দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের ডাক দেয় সিজেপি। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চান। ওই সময় আন্দোলন কিছুদিন চলমান ছিল। এরপরই নতুন করে গত সোমবার থেকে আবারো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলছে।
নিট (এনইইটি), সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসিসহ বিভিন্ন প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ আর ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে জন্ম হয় অপ্রথাগত রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করে এই নামকরণ করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে।
উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদি সরকারের বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম হলো কোনো রকম চাপের কাছে মাথা না নোয়ানো। এখন ককরোচদের আন্দোলনের মুখে সেই ধারা তিনি ধরে রাখবেন নাকি মাথা নোয়াবেন তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
