ক্ষমতাচ্যুতির ২ বছর
ভার্চুয়াল মাধ্যমে সামনে আসছেন হাসিনা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবার কোনো অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। আগামীকাল ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ওই ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই দিনটিতে কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা। নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এ সভার আয়োজন করছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মতবিনিময় সভার আমন্ত্রণপত্রের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি শেখ হাসিনা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফিরে আসার প্রস্তাবিত সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করবেন।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও স¤প্রতি জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োডো নিউজকে দেয়া পরপর দুটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আসার কথা বলেছিলেন।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ৫ আগস্টের এ মতবিনিময় সভার আমন্ত্রণপত্রে সভার আলোচকদের মধ্যে শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের নাম দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমন্ত্রিতদের প্যানেলে সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশ্লেষক আবু ওবায়দা আরিন, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ারের নাম রয়েছে।
এফসিসি সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবের (আইএপিসি) সভাপতি ওয়ায়েল আউয়াদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভাটি নয়াদিল্লির মথুরা রোডের ‘স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে’ অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলার কথা। এফসিসি ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোতেও সরাসরি স¤প্রচার করা হবে।
ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, এফসিসি সাউথ এশিয়ার মতবিনিময় সভা এমন দিনে হতে যাচ্ছে; দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ঠিক এই দিনে (৫ আগস্ট) ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতন হয়। পরে এ আন্দোলন দমাতে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হতাহতের অভিযোগে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলার করা হয়। এরমধ্যে একটিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্লট নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলাতেও সাজা দেয়া হয়েছে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের।
সরকারের পতনের পর সামরিকবাহিনীর বিমানে দেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই থেকে তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে সব ধরনের প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাকে।
গত ৯ জুলাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করেছেন। সঙ্গে নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান তিনি।
স¤প্রতি জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োডো নিউজকে দেয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারেও ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলাদেশে ফিরে আসব। আমি আদালতে হাজির হব। তারা আমাকে কারাগারে পাঠাতে পারে। এমনকি আমাকে ফাঁসিতেও ঝোলানোর চেষ্টা করতে পারে। আমি সেই ঝুঁকির কথা জানি।
কিয়োডো নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
