কবে থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক গণভবনকে রূপান্তর করে নির্মিত এই জাদুঘর অনলাইনে আবেদন ও টিকিট সংগ্রহের মাধ্যমে পরিদর্শন করা যাবে।
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অঙ্গনের আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্বোধনের প্রথম দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পরদিন ৬ আগস্ট থেকে অনলাইনে আবেদন করে সাধারণ দর্শনার্থীরা জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সরকারি বাসভবন গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাদুঘরটিতে স্থান পেয়েছে গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিল, ভিডিওচিত্র, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত সামগ্রী এবং আন্দোলনের নানা স্মারক। পাশাপাশি গত ১৭ বছরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, দমন-পীড়নের দলিল এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য গাইডেড ট্যুর ও অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ মানুষ সহজেই জাদুঘরটি পরিদর্শন করতে পারেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ১৭ দশমিক ৬৮ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত গণভবনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গ্রহণ করে। পরে ৫ সেপ্টেম্বর এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় জাদুঘর মোট ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। এর মধ্যে ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং অব্যবহৃত ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
