ইনফান্তিনোকে সরাতে নতুন বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি প্রয়োজন হলে ফিফার বাইরে বিকল্প আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে। তবে সব সমালোচনার মধ্যেও তিনি আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা সভাপতি নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। তাদের সঙ্গে কনকাকাফ ও এএফসিসহ আরও কয়েকটি আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে ফিফার বিকল্প হিসেবে একটি নতুন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। জানা গেছে, ২০১৭ সালেই এমন একটি আন্তর্জাতিক লিগের খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেছিল উয়েফা, যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
দ্য টাইমসকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ইনফান্তিনোকে নেতৃত্ব থেকে সরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রয়োজনে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়েও বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এদিকে ইনফান্তিনোর বিরোধীরা ‘গভর্ন্যান্স বয়কট’-এর মতো পদক্ষেপ নিয়েও ভাবছে। এর আওতায় ফিফা কাউন্সিল ও বিভিন্ন কমিটির বৈঠক বর্জনের মাধ্যমে তার নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসসহ ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের সমর্থনে দেওয়া চিঠি প্রত্যাহার করেছে। যদিও চলতি বছরের জুন মাসে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল।
বিশ্বকাপ চলাকালেও ইনফান্তিনোর একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উয়েফা প্রকাশ্যে সমালোচনা করে। বিশেষ করে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড স্থগিতের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
