×

প্রথম পাতা

হাফিজ-ফখরুল আলোচনায়

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হাফিজ-ফখরুল আলোচনায়

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে দেশে। রাজধানী থেকে গ্রাম, শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল সর্বত্র এখন একটিই আলোচনা- কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি? বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ নাকি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন তার আলোচনার ডালপালা মেলেছে। এতদিন বিএনপির নেতৃস্থানীয় কয়েকজন নেতার নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দুই জনের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে আলোচনায়। বিএনপির তরফে দুটি মনোনয়ন ফরম কেনায় এই আলোচনা জোরালো হচ্ছে।

এদিকে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। প্রার্থী হিসেবে তাদের শরিক দল এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়। জামায়াত আগে জানিয়েছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তারা কোনো প্রার্থী দিবে না।

নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট। সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভোটাভুটির আয়োজন চলছে। ইতোমধ্যে বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ বা স্পিকারের কার্যালয়।

বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের দুইজন নেতা বলেছেন, দলটির শীর্ষ নেতা এরই মধ্যে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কারো কারো সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনীত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ আলোচনা থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরই দল থেকে মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতা।

বিএনপি এবার একজন রাজনীতিবিদকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চায়; আর তা হতে হবে দলের ভিতর থেকে। দলটির নেতারা এমন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। সেই অবস্থান থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিবের নামই বিবেচনায় এসেছে বলে জানান বিএনপির নেতাদের অনেকেই।

তবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছে। এখন ঘুরেফিরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই দুইজন ছাড়াও বিএনপির অনেকের নাম আলোচনায় ছিল গণমাধ্যমে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান।

তাদের মধ্যে আলমগীরের নাম যে গুরুত্ব পাচ্ছে, সেক্ষেত্রে দুই ধরনের বিশ্লেষণও রয়েছে বিএনপিতে। দলটির কেউ কেউ মনে করেন, মির্জা ফখরুলের এতদিনের ভূমিকার জন্য তাকেই বঙ্গভবনের বাসিন্দা করে সম্মানিত করা উচিত। আবার অনেক নেতা মনে করেন, বঙ্গভবনের বাইরে বিএনপি সরকারে তার মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের প্রয়োজন আছে। সেখানে ঘাটতি হতে পারে বলে তাদের যুক্তি।

বিএনপিতে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি দলটির বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং জনগণের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করে দলটি ।

এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের দলের মহাসচিবকে সম্মান দিতে চাইছে বলে বলছেন দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা। তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমনপীড়ন, নির্যাতনে বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি।

আরো পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় যারা

দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে। শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভিতরে মির্জা ফখরুলই ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।

বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মি. আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন। মির্জা ফখরুলের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির একাধিক নেতা বলছেন।

তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভিতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে। একই সঙ্গে তারা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

এছাড়া জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভিতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

এছাড়া প্রচলিত সংস্কৃতি রয়েছে স্পিকার থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের। সে হিসাবে হাফিজ উদ্দিন আহমের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে। একই সঙ্গে দলে বিগত দিনে তার অবদানেরও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একটি পক্ষ চাইছে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার জন্য।

তবে বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের। তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেবেন বলে দলটির সূত্রগুলো বলছে।

দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ : রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল রবিবার সকালে নির্বাচনী কর্তার কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নির্বাচন ভবনে গিয়ে এই মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও রুহুল কবীর রিজভী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সিইসির একান্ত সচিব আশ্রাফুল আলম বলেন, বেলা ১১টার পরে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সময় সিইসি ও ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুইজন প্রার্থীর কথা মাথায় রেখেইে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির কেই কেউ। তবে এক প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেয়ারও বিধান রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

তপশিল ও ভোটাভুটি : নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে। তপশিল অনুযায়ী, গতকাল থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ১৩ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।

আরো পড়ুন:রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই মনোনয়নপত্র নিলো বিএনপি

মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক হতে হবে সংসদ সদস্যকে। এক প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, বাছাইয়ে একটি চূড়ান্ত হবে। একক প্রার্থী থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবে; একাধিক হলে ভোটাভুটি হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে কমিশন।

তখন সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হলে স্পিকার সাত দিন আগে বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। অবশ্য ইতোমধ্যে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। দিন, তারিখ জানানো না হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরেই এই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কারণ সাধারণ সংসদ অধিবেশন অক্টোবরে হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সংসদে রয়েছে। দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতা।

সবশেষ ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে উপস্থিত হয়ে উপস্থিত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী- মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রার্থীর সই করা মনোনয়নপত্রে নিয়ে প্রস্তাবক বা সমর্থক উপস্থিত থাকলেই হবে।

ভোটের প্রয়োজনীয়তা : নানা নাটকীয়তার পর গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। আওয়মী লীগ সরকারের পতনের পর তার পদত্যাগের দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে লাগাতার বিক্ষোভও করে জামায়াত-এনসিপি শিবির। মনোকষ্ট ও অসম্মানের কথা বলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগ করার কথাও জানিয়েছিলেন বিদেশি একটি গণমাধ্যমকে।

তবে সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করায় আস্থা ফেরে হয়তো দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন শাহাবুদ্দিন। কিন্তু বোধগম্য কারণে মেয়াদপূর্তির ২১ মাস আগেই পদত্যাগ করেন তিনি। ফলে মেয়াদের আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হচ্ছে সরকারকে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সৌদিতে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি

সৌদিতে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি

এসএসসিতে ৩১২ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

এসএসসিতে ৩১২ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

ভিন্ন উপায়ে জানুন পূর্ণাঙ্গ এসএসসির ফলাফল

ভিন্ন উপায়ে জানুন পূর্ণাঙ্গ এসএসসির ফলাফল

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন  শিক্ষার্থী

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App