×

প্রথম পাতা

জামায়াত জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হচ্ছেন অলি আহমদ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জামায়াত জোটের রাষ্ট্রপতি  প্রার্থী হচ্ছেন অলি আহমদ

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল রবিবার দুপুর একটার দিকে বেইলি রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে এক বৈঠকের পর জোটের শীর্ষ নেতারা অলি আহমদকে পাশে নিয়ে এ ঘোষণা দেন। এসময় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছি। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে, আমাদের দায়িত্ব হিসেবে, আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমারা সর্বসম্মতভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী দিয়েছি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট সংসদ অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে।

বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ

সদস্যদের ভোটে। আর সংসদে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দুই তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবেন।

বিরোধী দলের প্রার্থীর জয়ের কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিরোধী দলও এ নির্বাচনে অংশ নেবে। সে অনুযায়ী প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গতকাল রবিবার সকালে বেইলি রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠকে বসেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, জাতীয় নির্বাচনের পর জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে। কিন্তু সরকার কোনো ধারাতেই নেই। সংস্কার করতে অধিবেশন ডাকেনি।

তার বক্তব্য চলার সময়েই জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ অন্য শীর্ষ নেতারা অলি আহমদকে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন। শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছি।

তিনি বক্তব্য দিতে আহ্বান জানালে অলি আহমদ বলেন, আমি ১১ দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই মনে করেছে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং পরীক্ষিত একজন লোক। যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নাই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নাই। সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

এলডিপি সভাপতি বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। আমরা হারব বা জিতব- এটা প্রশ্ন না। মানুষের জন্য যেটা ভালো, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য দাঁড়াব। সমগ্র জাতিকে ধন্যবাদ জানাই।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, আমাদের বিবেচনায় প্রেসিডেন্টে পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য একজনকে মনোনয়ন দিতে পেরেছি। অলি আহমদকে মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে বর্ণনা করে মামুনুল বলেন, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে অলি আহমদ জোটের নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলেন, থ্যাংকিউ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। দুই দফায় খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।

তবে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ২০০৬ সালে বিএনপি ছাড়েন অলি। ওই বছর ২৬ অক্টোবর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি। তবে আদর্শগত পার্থক্যের কারণে ২০০৭ সালে বিকল্প ধারা ও এলডিপি আলাদা হয়ে যায়।

শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকলেও পরে বিএনপির জোটভুক্ত হয় এলডিপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন অলি।

তবে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর নতুন মেরুকরণে বিএনপির সঙ্গে অলির বনিবনা হচ্ছিল না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তার এলডিপি যখন জামায়াত জোটে যোগ দিল, অনেকেই তখন বিস্মিত হয়েছিলেন।

প্রথমে বিএনপি এবং পরে এলডিপি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি অলি আহমদের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। এলডিপি ১১ দলীয় ঐক্যে যোগ দেয়ার পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে প্রার্থী করা হয় অলির ছেলে ওমর ফারুককে। তবে ভোটের লড়াইয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদের কাছে পরাজিত হন।

ভোট দিতে পারবেন গাজী নজরুল : নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার ভোট দিতে কোনো বাধা নেই বলে দাবি করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেননি বা যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়নি, ভোটার তালিকায় নাম থাকলে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম।

এক নারীর সঙ্গে হোটেল কক্ষে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গত জুন মাসে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। দলীয় ওই সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জানানো হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সৌদিতে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি

সৌদিতে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি

এসএসসিতে ৩১২ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

এসএসসিতে ৩১২ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

ভিন্ন উপায়ে জানুন পূর্ণাঙ্গ এসএসসির ফলাফল

ভিন্ন উপায়ে জানুন পূর্ণাঙ্গ এসএসসির ফলাফল

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন  শিক্ষার্থী

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App