×

শেষের পাতা

তিন দিনের বৃষ্টিতে খুলনায় জলজট, পানির নিচে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা

Icon

বাবুল আকতার, খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তিন দিনের বৃষ্টিতে খুলনায় জলজট, পানির নিচে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা

টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে খুলনায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক যানবাহন পানিতে আটকা পড়েছে। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। এদিকে বুধবার গভীর রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ও টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে খানজাহান আলী থানার যোগীপোল ও গিলাতলা এলাকায় বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান ঘরের টিন উড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা ও কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধ শতাধিক পরিবার। টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় দরিদ্র, অসহায় ও দিনমজুর পরিবারগুলোকে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশে খুলনা জেলা প্রশসক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।

গত ৩দিনে ভারী বৃষ্টিতে নগরীর বহু সড়ক হাঁটুসমান পানিতে ডুবে গেছে। নগরীর রয়েল মোড়, শিববাড়ি মোড়, ময়লাপোতা, নেভি স্কুল মোড়, পুলিশ লাইন মোড়, ডাকবাংলা, সোনাডাঙ্গা, বয়রা, বাস্তহারা কোলোনি ও ফুলবাড়িগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নি¤œাঞ্চল। নগরীর অনেক এলাকায় হাঁটুসমান, কোথাও কোথাও তারও বেশি। গত মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশা ও ইজিবাইকচালক-সবাইকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে বুধবার গভীর রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ও টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে খানজাহান আলী থানার যোগীপোল ও গিলাতলা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান ঘরের টিন উড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা ও কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধ শতাধিক পরিবার। টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় দরিদ্র, অসহায় ও দিনমজুর পরিবারগুলোকে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশে এই অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, ‘সরকার সব সময় মানুষের পাশে রয়েছে, যেন দুর্যোগে তারা হতাশ না হয় এবং সরকারের সহযোগিতাটা যেন তারা ঠিক সময়ে পায়। এখানে আমরা যেটা দেখেছি টিনের চাল নেই, বাতাসে উড়ে গেছে। তাদের জিনিসপত্রের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে যেহেতু আমাদের বরাদ্দ যথেষ্ট রয়েছে। সেই অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে একটা ফুড ব্যাগে ১০ কেজি চাল, দুই লিটার তেল, চিনি, লবণ, মসুরের ডাল, তাৎক্ষণিকভাবে নগদ পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। তাদের যদি আরো কোন কিছু লাগে সেটা সরকারিভাবে দেখা হবে।

স্থানীয়রা জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে যোগীপোল ৮ নং ওয়ার্ডের ২৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ পরিবারের বসতঘর এবং রান্না ঘরের টিন উড়ে গেছে। কোন পরিবারের আংশিক আবার কোন পরিবারের পুরাটাই। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের ভৈরব নদীর তিন সংলগ্ন এলাকা, মধ্যপাড়া, গাজীপাড়া এলাকার অনেক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, বিদ্যুতের খুঁটি, মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে গাছপালা। ভেঙে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়েছে। ভেঙে পড়েছে মাটির ঘর।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ড্রেনেজ সংকটের কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বড় অংশ জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী। বিশেষ করে ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন খুলনার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নগরীর সামগ্রিক জলপ্রবাহ, খালের ধারণক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ নগরায়ণের বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। পর্যাপ্ত গবেষণা ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে অনেক স্থানে বড় প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত হয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নেয়া প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় গত সাড়ে পাঁচ বছরে সাতটি খাল খনন ও দুই শতাধিক ড্রেন নির্মাণ-সংস্কার করা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র অনুসারে, নগরীতে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ১৬৫ কিলোমিটার। খুলনা সিটি করপোরেশনের ‘খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় গত কয়েক বছরে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ হয়েছে। এই প্রকল্পের পরিচালক খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যাসার্ধের ১৪৭ কিলোমিটার ১৬৯টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এর সবগুলোই ঢাকনাযুক্ত ড্রেন।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান কনজারভেন্সি অফিসার মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আমরা আপাতত এই কাজ বন্ধ রেখেছি। কারণ ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনে চলে যাচ্ছে। খুলনার জলাবদ্ধতার মূল কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেন নয়, এটি একটি পরিকল্পনাগত সংকট। গত কয়েক বছরে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ দুটোই কমে গেছে। একইসঙ্গে নদী-খালের সঙ্গে শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা যায়নি।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মূলত শহরের পানি রূপসা নদীতে নামতো। সেটি নামছে না। কিন্তু বিগত সরকারের সময়ে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের কাজ সময়মতো শেষ না করা, রূপসার পাম্প হাউজ বন্ধ, স্লুইচ গেটগুলো অকেজো থাকায় নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া জোয়ারের সময় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরীর রাস্তাগুলো ডুবে যাচ্ছে। ড্রেন আগে যেভাবে ছিল, সেভাবে নেই। ড্রেনগুলোর বেড উঁচু করে ফেলায় বাড়িগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ও বাড়ির মধ্যে পানি প্রবেশ করছে। মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা মাত্র তিন মাস দায়িত্ব নিয়েছি। এরমধ্যে আমরা দিন-রাত এই সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। পানি নিষ্কাশনের বাধা দূর করছি, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সব চেষ্টা করছি। সমাধানের পথ খুঁজছি। নগরবাসীকে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থান ডস্টবিনে ফেলার আহ্বান জানান খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

আমাদের বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান জানান, বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়নের জলমা-কচুবুনিয়া সংলগ্ন এলাকায় শহর রক্ষা বেড়িবাঁধসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নদী উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধগুলো হুমকির মুখে রয়েছে। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বর্ষণে এবং উজানের পানির চাপে নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতে ¯্রােতের গতিও বেড়েছে। যার ফলে গত কয়েকদিন ধরে জলমা ইউনিয়নের কচুবুনিয়া সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধসহ উপজেলার কাজীবাছা, ঝপঝপিয়া ও সুরখালী ইউনিয়নের বারোআড়িয়া-সুন্দরমহল এলাকার নদী উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধগুলো যে কোন মুহূর্তে বিধ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার নদী ভাঙন অঞ্চলের বেড়িবাঁধগুলোর মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে জলমা ইউনিয়নের কচুবুনিয়া সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধ, তেঁতুলতলা, বটিয়াঘাটা বাজার সদর, সদর ইউনিয়নের বরুইতলা, বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের ভাদাইলবুনিয়া, বুঝবুনিয়া, শেয়ালিডাঙ্গা, গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের বরণপাড়া ও মাইটভাঙ্গা বরণপাড়া ও সুরখালী ইউনিয়নের বারোআড়িয়া-সুন্দরমহল ও রায়পুর এলাকার নদী উপকূলীয় বাঁধ রয়েছে হুমকির মুখে। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে পানির ¯্রােতের তোড়ে যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে গিয়ে প্লাবিত হতে পারে জলমা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাসহ মহানগরীর বড় বড় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ও উজানের পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীভাঙনে চরম আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ।

খুলনা শহরকে পানির চাপ থেকে রক্ষা করতে কাজিবাছা নদীর দুই মুখে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা হয় শহররক্ষা বেড়িবাঁধ। তারপর থেকে মূল কাজিবাছা নদী গতিপথ পরিবর্তন করে জলমা ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যেতে থাকে। এর প্রভাবে ময়ূরী নদীতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, নালুয়া পশুর নদী সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে জমিতে রূপান্তরিত হয়। আর কাজিবাছা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে জলমা ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থানসহ জলমা মৌজার হাজার হাজার একর জমি ও জলমা ও কচুবুনিয়া নামক দুই গ্রামের ঘরবাড়ি সর্বস্ব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দুটি গ্রামের মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা সহায় সম্বল হারিয়ে সরকারি ওয়াপদা রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে মানবের জীবন যাপন করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

হেলথ প্রশ্নে স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দারুণ রসিকতা

হেলথ প্রশ্নে স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দারুণ রসিকতা

উন্নয়ন-পরিবেশ-মানবকল্যাণ চলবে একই পথে

পরিবেশমন্ত্রী উন্নয়ন-পরিবেশ-মানবকল্যাণ চলবে একই পথে

আর্জেন্টাইন সেই শিশুর বক্তব্য ভাইরাল, গভীরভাবে নাড়া দিলো স্কালোনিকে

আর্জেন্টাইন সেই শিশুর বক্তব্য ভাইরাল, গভীরভাবে নাড়া দিলো স্কালোনিকে

শাহজালালের মাজারে দ্বিতীয়বারের মতো খোলা হলো দানবাক্স, চলছে গণনা

শাহজালালের মাজারে দ্বিতীয়বারের মতো খোলা হলো দানবাক্স, চলছে গণনা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App