×

শেষের পাতা

মশক নিধনে ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশার হুলের বিষ

Icon

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মশার কামড় থেকে নগরবাসীকে রক্ষার নামে প্রতিবছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে, খরচও হচ্ছে টাকা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই মশা আর নিধন বা নিয়ন্ত্রণ হয় না। সিস্টেমের ফাঁকফোকর গলে জনগণের ট্যাক্সের টাকা ব্যয় হয় ঠিকই। কিন্তু সেই সাথে নগরবাসীকে মশাও যেন দ্বিগুণ উৎসাহে হুল ফুটিয়ে তাদের আধিপত্য জানান দিচ্ছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

চসিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে শুধুমাত্র মশক নিধন-নিয়ন্ত্রণে বাজেট রাখা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। এ সংখ্যা গত বাজেটের প্রায় তিনগুণ। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মশা নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ ছিল ৯ কোটি টাকা। অথচ বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও এই খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর আগের ১০ মাসে মশার ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনায় খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এর বাইরে ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত ৩৫৫ জন অপারেটরের বেতন বাবদ প্রতি মাসে চসিকের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে মশা মারার পেছনে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে মশার রাজত্ব কমেনি। মশার ওষুধ কেনাকাটায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইতঃপূর্বে চসিকের ওষুধ কেনায় অনিয়মের অভিযোগে দুদক অভিযানও চালিয়েছে। এক্ষেত্রে নগরবাসীর মূল ক্ষোভের জায়গা হলো- কোটি কোটি টাকার ওষুধ ছিটানো হলেও মশা মরছে না। অথচ সিটি করপোরেশন প্রতিবছর নগরবাসীর কাছ থেকে রাজস্ব আদায় কমাচ্ছেনাতো বটেই বরং তা আরো বাড়াচ্ছে। কিন্তু সেবা পাচ্ছে না নগরবাসী এমন অভিযোগ করছেন অনেকেই। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত ছয়টি কীটনাশকের মধ্যে পাঁচটিই মশা মারতে কার্যক্ষমতা হারিয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ মশার মধ্যে এই রাসায়নিকগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া প্রায়শই লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ কেনায় দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘন ও নি¤œমানের ওষুধ সরবরাহের অভিযোগ ওঠে।

নতুন মেয়র বা প্রশাসন দায়িত্ব নিয়েই ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বা বিশেষ মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। কোন বছরই তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু মশা ঠিকই নগরবাসীর হুল ফোটানোর পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে মশারা অত্যন্ত যুদ্ধংদেহি, কিন্তু চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ উদাসীন।

২০২৬ সালের আগস্ট মাসেও বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে নগরীর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাসব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু

করেছে চসিক। ড্রোন দিয়ে লার্ভা খোঁজা বা বিদেশ সফরের মতো চটকদার উদ্যোগের প্রস্তাবও আসে। তবে বাস্তব চিত্র হলো, এ সব অভিযানের পর নিয়মিত তদারকি আর থাকে না।

জনস্বাস্থ্য ও কীটতত্ত্ববিদদের মতে, চসিকের মূল ব্যর্থতা হলো বিজ্ঞানসম্মত ও সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রচণ্ড ঘাটতি। যেটি প্রতি বছরই দেখা যায়।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, চসিকে কোনো স্থায়ী ও কার্যকর কীটতত্ত্ব বিভাগ নেই, যা নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখবে কোন ওষুধ কোন এলাকার মশার ওপর কার্যকর। কেবল ড্রেন বা নালায় ওষুধ ছিটানোর মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব, যদি না বছরের ৩৬৫ দিন শহরের জমা পানি, নালা ও আবর্জনা পরিষ্কারের সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ওষুধ কেনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রজননস্থল ধ্বংস করা যাবে, ততক্ষণ বাজেটের কোটি কোটি টাকা ধোঁয়া হয়েই উড়বে, কিন্তু চাটগাঁর মশা কমবে না- এমনটিই বলছেন সচেতন নগরবাসী ও কীটতত্ত্ববিদগণ।

এদিকে বিশ্ব মশা দিবসে ডেঙ্গু এবং মশাবাহিত রোগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চট্টগ্রামে র‌্যালি করেছে মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর জিইসি মোড় থেকে শুরু হয়ে র‌্যালিটি চলে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ‘মশার প্রজনন চক্র ভেঙে দিন, প্রতিটি জীবন সুরক্ষিত রাখুন’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র?্যালির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কাছে সহজ ও কার্যকর বার্তা তুলে ধরা হয়।

এই উদ্যোগে বিশেষ করে মশা জন্মানোর আগেই জমে থাকা পানি ও সম্ভাব্য প্রজননস্থল অপসারণের মাধ্যমে উৎসস্থল নির্মূলের ওপর জোর দেয়া হয়। যাতে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাধারণ মানুষ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রতি বছর ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস পালন করা হয়। মশার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস, জাপানিজ এনসেফালাইটিস, ইয়েলো ফিভার এবং ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সাড়াদান কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে এমএসএফ স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করছে। এর আওতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্য কার্যক্রম জোরদারে এমএসএফ সহায়তা করছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে চিকিৎসা সামগ্রী এবং চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের কার্যালয়কে ভেক্টর নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সামগ্রী প্রদান করেছে এমএসএফ।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স, যারা ‘সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল’ হিসেবে পরিচিত, একটি আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে একদল চিকিৎসক ও সাংবাদিক এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থা সংঘাত, মহামারি দুর্যোগ বা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে থাকে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন শামীম কায়সার

যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন শামীম কায়সার

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা-সমমর্যাদার

বিরোধীদলীয় নেতা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা-সমমর্যাদার

ইমরান-সেনাবাহিনীর সমঝোতার ইঙ্গিত, কোন পথে পাকিস্তানের রাজনীতি

ইমরান-সেনাবাহিনীর সমঝোতার ইঙ্গিত, কোন পথে পাকিস্তানের রাজনীতি

সালমান শাহর মাকে ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব!

সালমান শাহর মাকে ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব!

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App