সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সমঝোতার মেয়াদ আর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও করেছেন তিনি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের মেয়াদ সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হয়। এরপর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময়সীমার আর কোনো কার্যকারিতা নেই।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তা মোকাবিলায় দেশটির সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যে কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল, সেটি আর সম্প্রসারণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানান তিনি।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। জুনের সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর একটি চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো।
চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, তেহরান তাতে সম্মত নয়। তার ভাষায়, ইরান এমন কোনো চুক্তি করতে চায় না, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় বলে মনে করে।
ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না। তার দাবি, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: হাজিদের জন্য নতুন নিয়ম করলো সৌদি
হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রণালিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ধারণার কথা বলেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখনো ওই ধারণাকে সমর্থন করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ ব্যারেল তেল ওই অঞ্চল দিয়ে পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে।
তেলের দাম প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা থাকায় তেলের দাম কমছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমতে পারে। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সবশেষে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান বর্তমানে ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে। ফলে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
