ভারতে পালানোর সময় হাসিনার ফ্লাইট যেভাবে রাডারের বাইরে ছিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৫০ পিএম
গেল ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের মুখে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা ত্যাগ করেন।
তবে এ সময় হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি ছিল রাডারের বাইরে। বিমানটির ফ্লাইটপথ ও অবস্থান অস্পষ্ট করতে বন্ধ করে দেয়া হয় এর ট্রান্সপন্ডার। বিমান বাহিনীর ট্রান্সপোর্টর বিমানটি ঢাকা ত্যাগ করার সময় এটি একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট হিসেবে উড্ডয়ন করে।
বিমানের ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে জানা যায় বিমানের অবস্থান, কোন পথে যাচ্ছে, উচ্চতা এবং গতি কত সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেইসাথে এতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় জিওলোকেটার সিস্টেম।
তবে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এই ট্রান্সপন্ডার চালু করা হয়নি। ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে ফ্লাইট এজেএএক্স-১৪৩১ প্রোগ্রেস স্ট্রিপের একটি অনুলিপি পেয়েছে।
ফ্লাইট প্রগ্রেস স্ট্রিপ হল একটি ছোট কার্ড যা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল আকাশে একটি নির্দিষ্ট বিমানের গতিপথ বের করতে ব্যবহার করে যাতে বিমানগুলো মাঝ-আকাশে সংঘর্ষে না পড়ে।
ফ্লাইট প্রগ্রেস স্ট্রিপ থেকে দেখা গেছে শেখ হাসিনার বিমানটি ৫ অগাস্ট বিকাল ৩টা ০৯ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পশ্চিমে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এয়ারবেস থেকে উড্ডয়ন করে। লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানের ককপিট এবং ঢাকার এটিসি-এর মধ্যে রেডিও যোগাযোগের একটি রেকর্ডিংও পেয়েছে গণমাধ্যমটি। বিমানটি হাসিনাকে নিয়ে যখন ঢাকা-কলকাতা রুটের ওয়েপয়েন্ট "বেমক" এ পৌঁছায় তখনই এটির ট্রান্সপন্ডার এবং স্বয়ংক্রিয় জিওলোকেটার সিস্টেম চালু হয়।
৫ আগস্ট দিল্লির হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে হাসিনাকে বহনকারী বিমান অবতরণ করে। এরপর তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় ভারতীয় বাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজে’ লেখা এক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, শেখ হাসিনা দিল্লির কাছাকাছি একটি বিমান ঘাঁটির নিরাপদ বাড়িতে আছেন। সেখান থেকে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
কথা ছিল দিল্লি হয়ে বোন শেখ রেহানার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যাবেন। তবে সেই সুযোগ পাননি তিনি। ভারতে আশ্রয়ের কয়েক ঘণ্টা পর হাসিনার যোগাযোগের সব ডিভাইসে বিঘ্ন ঘটে। এরপর থেকে তিনি আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, হাসিনার ওই বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। এমনকি ঘাঁটির ভেতর সেনাদের জন্য থাকা একটি সুপার শপেও যাওয়ার সুযোগ পান না তিনি। অথচ তার বাড়ি থেকে সুপার শপটিতে হেঁটে যাওয়া যায়। এমনকি এখন পর্যন্ত মেয়ে পুতুলের সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ পাননি শেখ হাসিনা।
