×

বরিশাল

পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল

Icon

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) থেকে

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল

ছবি: কাগজ প্রতিবেদক

পটুয়াখালীর মহিপুরে গ্রাম পুলিশ নিয়োগকে কেন্দ্র করে ৯নং ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমের টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে আয়েশি ভঙ্গিতে টাকার বান্ডিল নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়, যা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, নিজ বাসভবনে খালি গায়ে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় বসে আছেন চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম। তার সামনে টাকার বান্ডিল নিয়ে কয়েকজন লোক বসে আছে। টাকা গ্রহণের একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায় যে, নিয়োগ বোর্ড তিনি একাই নিয়ন্ত্রণ করছেন না; বরং সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাম জড়িয়েও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি ইউএনও অফিসের এক পিয়নের সাথেও যোগসাজশ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায় তার কথায়।

স্থানীয়দের দাবি, ৪ জন গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বিপরীতে একেকজন প্রার্থীর কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে সুনির্দিষ্টভাবে ৬নং ওয়ার্ডের প্রার্থী তামিমের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠলেও লেনদেনের পরিমাণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘স্বচ্ছতার বুলি আওড়ালেও পর্দার আড়ালে যে লাখ লাখ টাকার খেলা চলেছে, এই ভিডিও তার জীবন্ত প্রমাণ। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে ফাঁসাতে টাকাটা একজন গ্রাম পুলিশের চাকরি প্রত্যাশী রেখে গেছেন। আমি টাকাটা স্থানীয় একজনের কাছে জামানত রেখেছিলাম। তার চাকরি না হয় পরবর্তীতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দিয়েছে। তবে নিয়োগ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান দাবি করেন, পরীক্ষার দিন তিনি পটুয়াখালীতে মিটিংয়ে ছিলেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

বর্তমানে পুরো উপজেলা জুড়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফেসবুকের নিউজফিড— সর্বত্রই এই ভিডিও নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। 

এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র দায়সারা তদন্ত কিংবা বক্তব্য নয়, বরং উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে পর্দার আড়ালের সত্য বের করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। 



সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ফলকার টুর্ক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ফলকার টুর্ক

অবৈধ অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত কারা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধ অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত কারা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরোনো পাতায় নতুন গল্প: সোনাদীঘির অর্ধশতকের পাঠশালা

পুরোনো পাতায় নতুন গল্প: সোনাদীঘির অর্ধশতকের পাঠশালা

পুলিশ সদস্যের বাসায় মিলল ৯০ হাজার পিস ইয়াবা

পুলিশ সদস্যের বাসায় মিলল ৯০ হাজার পিস ইয়াবা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App