অবৈধ অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত কারা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনার সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু লোকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। এসব অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর ‘নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে’ এক নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এআই ক্যামেরাতেও ধরা পড়ছে না অটোরিকশা
নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর লালবাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন ও নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখনও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া চলাচল করছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন খলিলুর রহমান
এসব যানবাহনের অধিকাংশের নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিএমপির তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। এসব ক্যামেরা যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠায় এবং পরবর্তী সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হয়। কিন্তু নম্বর প্লেটবিহীন বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না।
৫০-৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার
সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, অটোরিকশা তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়েছে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব যানবাহনের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করার পাশাপাশি প্রধান সড়কে বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
তিনি অটোরিকশায় নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম ভাড়া, সহজলভ্যতা এবং স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে এ খাত এখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে।
বৈধ চার্জিং পয়েন্ট মাত্র ৩ হাজার ৩০০
দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। বিপরীতে শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে সরকারের ধারণা।
আরও পড়ুন: নতুন পে স্কেলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনে বড় পরিবর্তন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব চার্জিং পয়েন্টে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে জাতীয় গ্রিড ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
অনুমোদিত বা আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফর্মার ও বিতরণ লাইনে অতিরিক্ত লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি টাকা
অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের কারণে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপই বাড়ছে না, সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্বও।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
ফলে একদিকে অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল, অন্যদিকে অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
