ভোলার ৬ রুটে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল স্থগিত
এইচ এম নাহিদ, ভোলা
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দ্বীপ জেলা ভোলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তজুমদ্দিন পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার জনমনে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নৌবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি থাকায় ভোলা-মনপুরা ও হাকিমুদ্দিনসহ জেলার ৬টি অভ্যন্তরীণ নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় থেমে থেমে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেঘনা নদীতে ঢেউয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নদীপথে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নৌবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় মনপুরা-হাকিমুদ্দিনসহ ভোলা জেলার পাঁচটি অভ্যন্তরীণ নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা নৌপথে ফেরি ও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন নদী এলাকায় জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন। নদীতে জেলে নৌকা ও ছোট নৌযানের চলাচলও কমে গেছে।
