আট দফা দাবিতে উত্তাল বরিশাল বিসিক শিল্পনগরী, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ আট দফা দাবিতে বরিশালের বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফরচুন সুজ কোম্পানির শ্রমিকরা বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করেছেন। এতে নগরের নতুনবাজার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ফরচুন সুজ কারখানার সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের একটি অংশ বিসিক শিল্পনগরীর কয়েকটি কারখানার কাচ ভাঙচুর করেন।
পরে বিকেল ৪টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক মিছিল নিয়ে নগরের নতুনবাজার এলাকায় গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে বরিশাল নগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান করছিলেন।
বিক্ষোভ চলাকালে ফরচুন সুজ কোম্পানির মালিক মো. মিজানুর রহমানের চাচাতো ভাই ইমরান হোসেন ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের একাংশ তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, তারা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করলেও নিয়ম অনুযায়ী ওভারটাইম ভাতা পান না। এছাড়া গত দুই মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের সাত মাস অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কাজ করেও তারা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কর্মস্থলে নানা ধরনের হয়রানির পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধারও অভাব রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দুই মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, প্রতি মাসের বেতন সাত কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়া, বিকেল ৫টার পর কাজের জন্য ওভারটাইম ভাতা নিশ্চিত করা, প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর, চলতি বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাস্তবায়ন, জেনারেল ম্যানেজারের পদত্যাগ, শ্রমিক পরিবহনের মানোন্নয়ন, কর্মস্থলে হয়রানি বন্ধ এবং নারী শ্রমিকদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ও ক্যানটিন চালু করা।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিসিক শিল্পনগরী ও নতুনবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে ফরচুন সুজ কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
