শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানাল ভারত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি ভারত পেয়েছে কি না এবং সেসব নথির ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ভারত আগেও এ অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী। জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই ভারতের লক্ষ্য।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তাকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, তারা বাংলাদেশের অনুরোধ পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে চুক্তিটির একটি ধারা সংশোধন করা হয়, যার ফলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হয়।
সংশোধনের পর প্রত্যর্পণের অনুরোধের সঙ্গে অপরাধের বিস্তারিত প্রমাণ দাখিলের বাধ্যবাধকতা কিছুটা কমানো হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকেও গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে কিছু ক্ষেত্রে অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রয়েছে। চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদের মতো কিছু গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া চুক্তির ৮ নম্বর ধারায় অভিযোগটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়নি বা ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রত্যর্পণ করা সমীচীন নয় বলে মনে হলে অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা ওই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পরও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। নয়াদিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি আইন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার আলোকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারও জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তার বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ভারত দিতে পারছে না বলেও জানান তিনি।
ফলে বুধবারের বক্তব্যে প্রত্যর্পণ নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা না এলেও ভারত বিষয়টিকে আপাতত আইনি কাঠামোর মধ্যেই বিবেচনা করছে বলে স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি।
