×

বরিশাল

বনের খাল দখলে প্রভাবশালীরা, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

Icon

কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

বনের খাল দখলে প্রভাবশালীরা, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

ছবি : ভোরের কাগজ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার উপকূলীয় সবুজ বনায়নের ভেতরের বিভিন্ন খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে জোয়ারের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মহিষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বন বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীবেষ্টিত রাঙ্গাবালীর উপকূলীয় বনায়নের ভেতর দিয়ে অসংখ্য ছোট খাল প্রবাহিত হয়েছে। এসব খাল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় জোয়ার-ভাটার সময় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ সেখানে আশ্রয় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র খালগুলোতে বাঁধ নির্মাণ করে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকার করছে। বাঁধ নির্মাণে বনাঞ্চলের বড় বড় গাছ কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, রাঙ্গাবালীর অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বনের খাল দখল করে মাছ শিকারের কারণে সাধারণ জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালীদের মৌখিকভাবে খাল ও চর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।

চর মাদারবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা মনজুর রহমান মৃধা জানান, তিনি বনে ১৯টি মহিষ পালন করেন। গত ২১ জুলাই রাতে খালের একটি বাঁধে আটকে জোয়ারের পানিতে তার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি মহিষ মারা যায়। এছাড়া আরও তিনটি ছোট মহিষ নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম মিয়া বলেন, খালে বাঁধ দেওয়ায় জোয়ারের পানি আটকে মহিষের মৃত্যু হচ্ছে। বিষ প্রয়োগের কারণে ছোট মহিষ মারা যাচ্ছে এবং গাভীন মহিষের গর্ভপাতের ঘটনাও ঘটছে। একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা রিয়াদ হোসেনের অভিযোগ, সরকারি বনভূমির গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বন বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিযোগ করেন, বিষ প্রয়োগের কারণে অসংখ্য ছোট মাছ মারা যাচ্ছে। প্রতিদিন কয়েক মণ মৃত মাছ নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে মৌখিকভাবে খাল ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকেন। ফলে প্রতিবছর একই ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও জীববৈচিত্র্য ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বাঁধ নির্মাণের অভিযুক্ত ওহাব মাদবর বলেন, যে বাঁধে মহিষ মারা গেছে সেটি তিনি নির্মাণ করেননি। তিনি অন্য একটি খালে বাঁধ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, ওই বাঁধটি নির্মাণ করেছেন সুমন নামে আরেক ব্যক্তি। বাগান ব্যবহারের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার কাছ থেকে তারা মৌখিক অনুমতি পেয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা দেলোয়ার কাজীসহ সংশ্লিষ্ট অন্য নেতারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পাওয়া একটি অডিও রেকর্ডে একজনকে বলতে শোনা যায়, রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। লিখিত কোনো অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি বলেও ওই অডিওতে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে মহিষ মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, পরে বাগানটি অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তা ফজলুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বন বিভাগ কাউকে বাগান বা খাল ব্যবহারের জন্য লিজ বা অনুমতি দেয়নি। মহিষ মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বনের ভেতরে নির্মিত সব অবৈধ বাঁধ দ্রুত অপসারণ করা হবে এবং বনাঞ্চলের গাছ কেটে যারা বাঁধ নির্মাণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘সিজেপি’-কে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান মুকেশ খন্নার

‘সিজেপি’-কে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান মুকেশ খন্নার

লোডশেডিং ও ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ মেহেন্দিগঞ্জবাসী

লোডশেডিং ও ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ মেহেন্দিগঞ্জবাসী

ওজনে কারচুপির অভিযোগে নাবিস্কোকে জরিমানা

ওজনে কারচুপির অভিযোগে নাবিস্কোকে জরিমানা

‘মাসে পাঁচবার যৌন সম্পর্কের’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে

‘মাসে পাঁচবার যৌন সম্পর্কের’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App