সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদ জানিয়ে ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র মতবিনিময় সভা মাঝপথে বর্জন করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সরকারবিরোধীরা এ বৈঠকে অংশ নেয়নি।
বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, "সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' গঠন করে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এই পদ্ধতি নিয়ে কোনো ভিন্নমত বা 'নোট অব ডিসেন্ট' ছিল না।"
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো সাধারণ সংশোধনের মাধ্যমে করা হলে ভবিষ্যতে আদালতের মাধ্যমে তা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে টেকসই পরিবর্তন আনতে সংস্কার পরিষদ গঠন করা জরুরি।
হাসনাত কাইয়ুমের অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আওতায় এসব বিষয় আলোচনা ও বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ক্ষমতায় এসে সরকার এককভাবে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এর প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা আজকের সভায় যোগ দিয়েছিলেন এবং বক্তব্য তুলে ধরে সভা বর্জন করেছেন।
আরও পড়ুন: সংবিধান সংশোধন বিষয়ে রিপোর্ট কবে, যা জানা গেল
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ সংশোধনের মাধ্যমে আনা কোনো পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে আবার বদলে দিতে পারে। কিংবা উচ্চ আদালত মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের অজুহাতে তা বাতিল করতে পারে। ফলে স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য নতুন করে জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেটের প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে বিশেষ কমিটির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন আদেশ বর্তমান সংবিধানের পরিপন্থী এবং সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে এখনো সার্বিক ঐকমত্য হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় সিদ্ধান্তের জন্য বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে কমিটি।
