বিএম কলেজ ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, হল থেকে শিবির কর্মীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাতকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা শিবিরের কর্মীদের মারধর করে ক্যাম্পাস ও দুটি ছাত্রাবাস থেকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে ছাত্রদলের দাবি, শিবির ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তারা তা প্রতিরোধ করেছে। ঘটনার পর থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুটি ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার পর কয়েকশ ছাত্রদল কর্মী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ফ্লাইট সার্জন ফজলুল হক হল এবং মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলে অভিযান চালায়। তারা কক্ষগুলোতে গিয়ে শিবিরের কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়। এ সময় শিবিরের কর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ছাত্রদলের সংঘবদ্ধ অবস্থানের মুখে তারা পিছু হটে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। ত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাস ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা আকবর মুবিন বলেন, ‘ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। ছাত্রদল তাদের প্রতিরোধ করেছে। শিবির কর্মীরা আক্রমণাত্মক আচরণ করলে তাদের ছাত্রাবাস ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের কর্মী আশরাফুল ইসলাম, আরিফুর রহমান, আবির শিকদার ও আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে আকস্মিক হামলা চালিয়ে তাদের ওপর মারধর করে এবং ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেয়।
মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলের তত্ত্বাবধায়ক বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি সত্য। এ নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ফ্লাইট সার্জন ফজলুল হক হলের তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। শিবির কর্মীদের হল ছাড়ার জন্য ছাত্রদল নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সভা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।’
ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
