সায়েদাবাদের দূরপাল্লার বাস শিগগিরই কাঁচপুরে স্থানান্তর: ডিএসসিসি প্রশাসক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন বাস টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ১৬টি জেলার বাস সেখানে নেওয়া হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরের যানজট কমানো ও গণপরিবহনব্যবস্থা আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ে কাঁচপুরে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে দূরপাল্লার মোট ১৬টি জেলার বাস সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তী সময়ে এখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করায় ঢাকা শহরের যানজট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। কাঁচপুর থেকে ট্রানজিট হিসেবে সায়েদাবাদে আসা-যাওয়া করা যাত্রীদের সুবিধার্থে ডিএসসিসির উদ্যোগে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে একটি বিশেষ ‘শাটল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন টার্মিনালটিতে প্রায় ৪০৫টি বাসের ধারণক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে ৩৭৮টি বাসের পার্কিং, ২২টি বাস বে, পাঁচটি ওয়াশিং বে এবং ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া যাত্রীদের জন্য ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন, ১০৬টি টিকিট কাউন্টার, পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ছয়টি টয়লেট থাকবে। পাশাপাশি ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস ও ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুমের সংস্থান রাখা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক কাজের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত করা, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা এবং কোনো ধরনের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
