×

বরিশাল

দুই বছর ধরে বন্ধ হাসপাতালের কাজ, দুর্ভোগে রাঙ্গাবালীর মানুষ

Icon

কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

দুই বছর ধরে বন্ধ হাসপাতালের কাজ, দুর্ভোগে রাঙ্গাবালীর মানুষ

ছবি : ভোরের কাগজ

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আধুনিক চিকিৎসাসেবার মৌলিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর প্রায় দুই লাখ মানুষ। ৩৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় নেই কোনো হাসপাতাল। জটিল রোগে আক্রান্ত হলে নদীপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় পাশের কলাপাড়া, গলাচিপা কিংবা জেলা সদরে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের।

স্থানীয়দের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাঙ্গাবালীতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাঁচ একর জমির ওপর চারতলা ভবনের হাসপাতাল নির্মাণের জন্য পৃথক দুটি লটে প্রায় ২১ কোটি টাকার কাজ পায় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এক বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রথম লটের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় লটের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর নানা জটিলতা ও সরকার পরিবর্তনের কারণে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ আর শুরু হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় অসম্পূর্ণ হাসপাতাল ভবনটি এখন গরু-ছাগলের বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জমেছে শ্যাওলা, পাশাপাশি সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমান সিকদার বলেন, হাসপাতাল না থাকায় তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সামান্য জ্বর বা পেটের সমস্যার চিকিৎসার জন্যও কলাপাড়া কিংবা গলাচিপায় যেতে হয়। স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে যারা চিকিৎসা দেন, তাদের অনেকেরই পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই।

গাইয়াপাড়া গ্রামের হাসান গাজী বলেন, হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ অর্ধেকের বেশি শেষ হওয়ার পরও প্রায় দুই বছর ধরে এটি পড়ে আছে। বর্তমানে ভবনটি গরু-ছাগলের চারণভূমি ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। চিকিৎসার জন্য নদী পাড়ি দিয়ে অন্য উপজেলায় যেতে হয়। অনেক সময় রোগীকে কলাপাড়া বা গলাচিপায় পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর মুখে পড়তে হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

দ্রুত হাসপাতালটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে নতুন করে পৃথক দুটি লটে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, হাসপাতালটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ আবার শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দুর্দান্ত শুরু করলেও দিনশেষে ৮ উইকেট নেই বাংলাদেশের

দুর্দান্ত শুরু করলেও দিনশেষে ৮ উইকেট নেই বাংলাদেশের

‘আলেম-ওলামাদের কারও রাজনৈতিক খেলার গুটি হওয়া যাবে না’

‘আলেম-ওলামাদের কারও রাজনৈতিক খেলার গুটি হওয়া যাবে না’

‘মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক’

প্রধানমন্ত্রী ‘মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক’

বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের ৩ কোটি টাকা লুট, গুলিবিদ্ধ ১

বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের ৩ কোটি টাকা লুট, গুলিবিদ্ধ ১

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App