খালেদা জিয়ার দোয়া কর্মসূচি উপক্ষো করে বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর খান কেন্দ্রীয় দোয়া কর্মসূচিকে উপেক্ষা করে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা সালাম মৃধাকে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে ঘোষিত দোয়া মাহফিল চললেও নিয়ামতিতে উল্টো বহিষ্কৃত সালাম মৃধাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ৯ মার্চ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সালাম মৃধাকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু গত ১৭ নভেম্বর হঠাৎ করেই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। পুনর্বহালের মাত্র ১১ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকে অমান্য করে সোহেল–বাহাদুর জুটি তাকে সংবর্ধনা দেন।
আরো পড়ুন : খুলনায় আদালত চত্বরে দুজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
স্থানীয়দের অভিযোগ, আহ্বায়ক থাকাকালে সালাম মৃধা এবং সদস্য সচিব থাকাকালে সোহেল শিকদার মিলে ইউনিয়নে চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সালামের প্রত্যাবর্তনে সোহেল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, যেদিন দেশনেত্রীর দোয়ার দিন, সেদিন বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া দলের প্রতি চরম অসম্মান। এটা শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, দলের ভাবমূর্তি নষ্টের সুকৌশল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যারা কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করছেন তারা কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তৃণমূল ভেঙে পড়বে। বিশ্লেষক সোহরাব হোসাইন বলেন, এরা দলের চেয়ে ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও আর্থিক স্বার্থে বেশি আগ্রহী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময়ে এটি সরাসরি দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নেতা-কর্মীরা সোহেল শিকদার ও বাহাদুর খানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দাবি করেন, তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বাকেরগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে।
বরিশাল জেলা বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতার দাবি, বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এসেছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
