রাশেদ খান
ক্যান্টনমেন্টের ক্লিয়ারেন্স পেয়েই এক দফা ঘোষণা করেছিলেন নাহিদ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেন, ক্যান্টনমেন্টের ‘স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স’ পাওয়ার পরই নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা দেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
পোস্টে রাশেদ খান বলেন, আব্দুল কাদের মাহফুজ আলমের ভূমিকা নিয়ে তথ্য প্রকাশের পর মাহফুজ আলম শিবিরের অবদান স্বীকার করলেও অতীতে তিনি কখনো তা করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, এক দফা ঘোষণার বিষয়ে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ‘সংগ্রাম’-এ যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে মিল নেই।
রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহফুজ আলম লিখেছেন যে, অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচির একটি খসড়া সাদিক কায়েম প্রস্তুত করেছিলেন, যা পরদিন আসিফ মাহমুদ পাঠ করেন। তবে রাশেদ দাবি করেন, এক দফার ঘোষণা আসিফ মাহমুদ নয়, নাহিদ ইসলাম দিয়েছিলেন। আর আসিফ মাহমুদ অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা পাঠ করেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবিরের যতটুকু অবদান রয়েছে, ততটুকু স্বীকৃতি পাওয়াই উচিত। তবে অবদানকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তার দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় সাদিক কায়েম ‘সালমান’ পরিচয়ে কাজ করতেন এবং এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেন, মাহফুজ আলমের বক্তব্য অনুযায়ী ২ আগস্ট রাতে অনলাইনে এক দফা ঘোষণার বিপক্ষে অবস্থান ছিল এবং ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে জনসমক্ষে তা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, রাতেই ঘোষণা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট মহল থেকে চাপ ছিল, যা তিনি ক্যান্টনমেন্টকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করেন।
বলেন, ২ আগস্ট সেনাবাহিনীর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং ৩ আগস্ট সেনাপ্রধানের বক্তব্য যেখানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি না চালানোর অবস্থান জানানো হয় জনমনে সাহস জুগিয়েছিল। রাশেদের দাবি, ১ আগস্ট থেকেই সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই প্রেক্ষাপটেই এক দফার ঘোষণা আসে।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা ছিল। এক দফার সিদ্ধান্তও সম্মিলিতভাবে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সবশেষে রাশেদ খান বলেন, আব্দুল কাদেরের বক্তব্য সত্য না মিথ্যা সে বিষয়ে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের, রিফাত রশিদ ও মাহিন সরকারের মতো সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যই চূড়ান্তভাবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারে।
