ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি
ইরানের কাছে আরও অর্থ-সমরাস্ত্র সহায়তা চেয়েছে হামাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় তেহরানে উপস্থিত হয়েছিলেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকার্মী গোষ্ঠী হামাসের প্রতিনিধিদল। জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের এক ফাঁকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় তেহরানের কাছে কূটনৈতিক সমর্থন, বিপুল আর্থিক ও সামকির সহায়তা চেয়েছে হামাসর উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদল।
সম্প্রতি হিব্রু সংবাদমাধ্যম ‘কান’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। যদিও এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর বর্তমান প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল দারউইশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ৪ জুলাই ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার ফাঁকে তেহরানে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেখানে তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব প্রস্তাব পেশ করেন।
আরও পড়ুন: মধ্যস্থতার টেবিল থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়াতে পারে পাকিস্তান
ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’-এর তথ্যমতে, হামাস এই বৈঠকটিকে কাজে লাগিয়ে তেহরানের কাছ থেকে একটি শক্তিশালী ‘কূটনৈতিক সুরক্ষাজাল’ বা ডিপ্লোম্যাটিক শিল্ড চেয়েছে। বিশেষ করে, গাজা যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ইরান যেন হামাসের রাজনৈতিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে, সেই দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও ছিটমহলটির শাসনক্ষমতা থেকে তাদের অপসারণ করার যে কোনো আন্তর্জাতিক ফর্মুলা বা সম্ভাবনাকে ইরান যেন প্রকাশ্যে এবং জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে, তেহরানের কাছে সেই অনুরোধও করেছে গোষ্ঠীটি।
বছরের পর বছর ধরে ইরান হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে আসছে। এ দুই গোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
হামাসের এই কঠোর অবস্থান ও নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা উপত্যকা সংক্রান্ত নতুন শান্তি পরিকল্পনাকে বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে ফেলে দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের রক্তক্ষয়ী হামলার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা সর্বাত্মক যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির পর থেকে শান্তি প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক সমঝোতায় সামান্যই অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে।
হামাস অবশ্য বারবার জোর দিয়ে বলে আসছে যে, তারা তাদের অস্ত্রভান্ডারের কিছু অংশ বা হালকা অস্ত্র সমর্পণ করার বিরোধী নয়, তবে তা হতে হবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে। ইসরায়েল শুরু থেকেই হামাসের এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে এসেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
