বাড়িতে আমরা সমান : জ্যোতিকা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি সুরিয়া ও জ্যোতিকা শুধু অভিনয়জীবনেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও সমতার উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জ্যোতিকা জানিয়েছেন, তাদের সংসারে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমনকি তিনি রান্না করলে সুরিয়াও রান্নাঘরে এসে তার সঙ্গে কাজ করেন।
সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তারকা দম্পতি তাদের ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার এবং সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন।
আলাপচারিতায় জ্যোতিকা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি সুরিয়ার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি পারিশ্রমিক পেতেন। কারণ তখন অভিনেত্রী হিসেবে তার অবস্থান ছিল অনেক শক্তিশালী। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে।

হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “একসময় আমি সুরিয়ার চেয়ে তিন গুণ বেশি পারিশ্রমিক পেতাম। আর এখন ওর তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ কম পারিশ্রমিক পাই।” জ্যোতিকার এমন মন্তব্য শুনে হাসিতে ফেটে পড়েন সুরিয়াও।
স্বামীর প্রশংসা করে জ্যোতিকা বলেন, সুরিয়া এমন একজন মানুষ, যিনি নারী-পুরুষের সমতায় আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন। তার মতে, এই মানসিকতা কোনো অভিনয় নয়; বরং সুরিয়ার ব্যক্তিত্বেরই একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

জ্যোতিকা বলেন, “আমাদের সংসারে আমরা দুজনই সমান। একজন নারী রান্না করতে না চাইলে সেটিও স্বাভাবিক বিষয়। একজন পুরুষের ভেতর থেকেই সমতার মানসিকতা আসা উচিত, আর সুরিয়ার মধ্যে সেই গুণ রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সংসারের প্রায় সব কাজই তারা একসঙ্গে করেন। রান্না, সন্তানদের দেখাশোনা, সিনেমা নিয়ে আলোচনা কিংবা ছুটিতে যাওয়া—সব ক্ষেত্রেই দুজনের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে।
জ্যোতিকার ভাষায়, “আমি যদি রান্না করি, সুরিয়াও রান্নাঘরে এসে সাহায্য করে। আমরা সব দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে পছন্দ করি। একে অপরের সাফল্য ও বিকাশ দেখতে পারাটাই আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

১৯৯৯ সালে ‘পুভিল্লাম কেটুপ্পার’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় প্রথম পরিচয় হয় সুরিয়া ও জ্যোতিকার। পরে বন্ধুত্ব থেকে তাদের সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা জুটি।

বর্তমানে তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। অভিনয়ের ব্যস্ততার পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও সময় দেন সুরিয়া ও জ্যোতিকা। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাম্পত্য জীবনেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সমতার ভিত্তিতেই তাদের সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে।
