×

চট্টগ্রাম

পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ৩ দিনব্যাপী সামাজিক উৎসব শুরু

Icon

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ৩ দিনব্যাপী সামাজিক উৎসব শুরু

ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ৩ দিনব্যাপী সামাজিক উৎসব শুরু হয়েছে। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আজ থেকে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু. চাংক্রান, চাংলান, পাতা ও বিহু উৎসব। পুরাতন বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী জনগোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকার লোকজন সকালে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে উৎসবের সূচনা করা হয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৪টি ক্ষুদ্র নৃ -জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।

সকাল থেকে পাহাড়ী নারীরা বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করে একে একে চলে আসে কাপ্তাই হ্রদে। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ প্রার্থনা করে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে দেয় তারা। এসময় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে এই ফুল ভাসানোর উৎসবে অংশ নেন পাহাড়ি মানুষ।

পাহাড়ের এই উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটিতে অসংখ্য পর্যটকের ভীড় জমেছে। ফুল বিজুর এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব দেখে আপ্লুত নর নারী বলেন, এই উৎসব অনেক প্রাণবন্ত। এখানে না আসলে পাহাড়ের সামাজিক উৎসবের যে বৈচিত্র তা আমরা বুঝতে পারতাম না। এই উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মাঝে আন্তরিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমরা মনে করি পাহাড় ও সমতল সকল মানুষের মাঝে ভেদাভেদ উঠে যাবে। 

রোববার (১২ এপ্রিল) রাঙ্গামাটি রাজবাড়ী ঘাটে বৈসাবি উদযাপন কমিটি উদ্যোগে ভোরে গ্রামের তরুণ-তরুণীরা ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে তিন দিন উৎসবের সূচনা করা হয়। অন্যদিকে, সকালে গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্য ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে ত্রিপুরাদের বৈসাবি উৎসবের উদ্বোধন করেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা রোয়াজা।

এ সময় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

রাঙ্গামাটি বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, বৈসাবি উৎসব উপলক্ষ্যে সকালে রাজবাড়ী ঘাটে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করেছি। পুরাতন বছরের গ্লানি ভুলে ভবিষ্যতে সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় আমরা সকলে প্রার্থনা করেছি। আগামী বছরগুলোতে যেন বিশ্বের সকল মানুষ ভালো থাকে এবং পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন সুদৃঢ় থাকে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

পাহাড়ের এই সামাজিক উৎসবকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন ভিন্ন ভিন্নভাবে পালন করে থাকে। চাকমা সম্প্রদায় একে বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসু, তংচঙ্গ্যারা বিষু, মুরং সম্প্রদায় চাংক্রান, খুমীরা, চাংলান, সাঁওতালরা পাতা এবং অহমিয়া বা গুর্খারা একে বিহু বলে।

আগামীকাল ১৩ এপ্রিল  মূল বিজু পালিত হবে। ঐতিহ্যবাহী পাঁচজন রান্না করে অতিথি আপ্পায়নের মধ্যদিয়ে শুরু হবে মূল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ১৪ এপ্রিল পালিত হবে গোজ্যেপোজ্যে।

আগামী ১৫ কাপ্তাই চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার এলাকায় ও ১৭ এপ্রিল রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্যদিয়ে সামাজিক উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। তবে মাসব্যাপী এই উৎসব রাঙ্গামাটির বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতার জরুরি প্রেস ব্রিফিং

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতার জরুরি প্রেস ব্রিফিং

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মানা হবে না- মোদী সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মানা হবে না- মোদী সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মঙ্গল কামনা করলেন স্পিকার

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মঙ্গল কামনা করলেন স্পিকার

সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App