গোলাম পরওয়ার
‘কোরআনের বিধানের বিরুদ্ধে হাত দেওয়ার পরিণাম শুভ হবে না’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে সংসদে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে সরকার চরম দুঃসাহস দেখিয়েছে। কোরআনের বিধানের বিরুদ্ধে হাত দেওয়ার পরিণতি শুভ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক অধিকার, গণভোট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও সার সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যেই গতকাল (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মুখে শরিয়াহ পরিপন্থী ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হেবা ও ওসিয়তসংক্রান্ত বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত। এসব বিধানে পরিবর্তন এনে সরকারের মন্ত্রীরা কোটি কোটি মুসলমানের ঈমানি অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১৯৬১ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান পারিবারিক আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সর্বস্তরের আলেম সমাজ ও মুসলমানদের আন্দোলনের মুখে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এমনকি ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ আমলেও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মুসলিম পারিবারিক আইনে পরিবর্তন আনার সাহস করেনি ঔপনিবেশিক সরকার। অথচ বর্তমান সরকার সেই দুঃসাহস দেখিয়েছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ, যা আছে তার নামে
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বলেছেন ইসলামি আইন নাকি আধুনিক জগতে চলে না। এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। ইসলাম একটি কালজয়ী জীবনবিধান। কিয়ামত পর্যন্ত এটি মানবসভ্যতার ভারসাম্যপূর্ণ পথনির্দেশক।’
বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া প্রতিরোধে হেবা আইনের কার্যকারিতা নিয়ে সরকারের যুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন করা হয়েছে। সন্তানদের যথাযথ ইসলামি মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারলে কোনো বাবা-মাকে অপমানিত বা অবহেলিত হতে হবে না। সমস্যার মূল কারণ সমাধান না করে সরকার ইসলামবিরোধী পথ বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদে বিরোধী দলের নেতা ও এমপিরা এর প্রতিবাদ করেছেন এবং ওয়াকআউট করেছেন। তাঁরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়া বোর্ড, দেশের শীর্ষ আলেম ও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলারদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার কোনো মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে আইনটি পাস করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া গুম অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেন যারা গুমের সঙ্গে জড়িত তারাই এর তদন্ত করবে। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করে তা সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে সরকারকে অবিলম্বে আইনটি প্রত্যাহার করে ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। অন্যথায় গণভোট ও জনগণের দাবি উপেক্ষা করলে রাজপথের আন্দোলনের দাবানলে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
