কালবৈশাখীর তাণ্ডব
খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম-ঢাকা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলায় হঠাৎ আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ের তাণ্ডবে একাধিক এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায় এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
ঝড়ের প্রবল দাপটে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের মুসলিম পাড়া, রসুলপুর ও বাইল্যাছড়ি বুদুং পাড়া এলাকায় অন্তত চার কিলোমিটারজুড়ে অসংখ্য গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে। এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে, রসুলপুর এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন শিক্ষার্থীরা।
গুইমারা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ঐশী বড়ুয়া জানান, পরীক্ষা শুরুর প্রায় আধাঘণ্টা পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকার ও আতঙ্কের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হয়েছে বলে তিনি জানান। আরেক পরীক্ষার্থী রুবি আক্তার বলেন, ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের শব্দে ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী রূপনা কর্মকার জানান, দুপুর ২টার পরীক্ষা থাকলেও তারা সকাল থেকেই সড়কে আটকা পড়েন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল জানান, ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। স্থানীয়রা সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। আদর্শ গ্রাম এলাকায় একটি গাছ ঘরের ওপর পড়ে একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা যায়।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুটি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। অসংখ্য ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
