ঈদের বাজারেও হতাশ কামাররা, চায়না পণ্যে হারাচ্ছে কদর
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল আজহা সামনে এলেই একসময় আগুনের লেলিহান শিখা আর হাতুড়ির শব্দে মুখর থাকত কামারপল্লি। কোরবানির ছুরি, দা ও বঁটির ধার দিতে ভোর থেকেই মানুষের ভিড় জমত কামারের দোকানে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই ম্লান।
আখাউড়ার বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি কারখানায় আগুন জ্বললেও নেই আগের মতো ক্রেতার ভিড়। কোথাও কামাররা অলস সময় কাটাচ্ছেন, কোথাও পুরোনো যন্ত্রপাতির পাশে বসে অপেক্ষা করছেন ক্রেতার আশায়।
কামারদের অভিযোগ, চীনে তৈরি সস্তা ছুরি ও আধুনিক ধারালো যন্ত্রের কারণে হাতে তৈরি লোহার জিনিসের কদর কমে গেছে। পৌর শহরের সড়কবাজারের কামার অমূল্য কর্মকার বলেন, “আগে ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই কাজের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যেত। এখন মানুষ কম আসে, আয়ও আগের মতো নেই।”
সজল কর্মকার বলেন, “এই পেশা আমাদের বাপ-দাদার। আগে এ কাজ করেই সংসার ভালো চলত। এখন আগুন জ্বালিয়ে রাখাই কঠিন।” উত্তম কর্মকার বলেন, “নতুন মাল একদম বিক্রি হয় না। কাঁচামালের দাম বেশি, কিন্তু ক্রেতারা দাম কম বলে। আগে কোরবানির ঈদের আগে তিন-চার লাখ টাকা আয় হতো। এবার এক লাখ টাকাও হবে কি না সন্দেহ।”
কাজল কর্মকার বলেন, “আগে এসময় কাজের চাপে দম নেওয়ার সময় পেতাম না। এখন দোকানে বসেই সময় কাটছে।”
কামারদের মতে, বিদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও শ্রমের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। তবু তাঁরা আশা ছাড়ছেন না। টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আগুন আর হাতুড়ির শব্দে।
