×

চট্টগ্রাম

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে প্লাবিত চকরিয়া-মাতামুহুরী, পানিবন্দি লাখো মানুষ

Icon

মিজবাউল হক, চকরিয়া, কক্সবাজার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে প্লাবিত চকরিয়া-মাতামুহুরী, পানিবন্দি লাখো মানুষ

ছবি : ভোরের কাগজ

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমু বিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা, হারবাং এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনেক ফসলি জমি ও চিংড়ির ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।


টানা প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দুই উপজেলার পাহাড়ি এলাকার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মঈনুল আমিন বলেন, “তিন দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টি থামলেই মনে হয় পানি নামবে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাটগুলোতে হাঁটুপানি। চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”

মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দ আলম বলেন, “আমনের বীজতলা ও সবজিক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

চকরিয়া পৌরসভার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম। সারাদিন রিকশা চালিয়েও ঠিকমতো আয় হচ্ছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”


চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে, সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানান, মাতামুহুরী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদীর পানি বিপদসীমা ১১.৮০ মিটার অতিক্রম করে ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, আগামী দুই দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মেসিকে নিয়ে নতুন দাবি ঘানার তান্ত্রিক বনসামের

মেসিকে নিয়ে নতুন দাবি ঘানার তান্ত্রিক বনসামের

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো অর্ধগলিত মরদেহ

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো অর্ধগলিত মরদেহ

সাজেকে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

ভারী বর্ষণ সাজেকে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

কাঁঠালের বিচি ক্ষতিকর নাকি উপকারী, জেনে নিন

কাঁঠালের বিচি ক্ষতিকর নাকি উপকারী, জেনে নিন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App