×

চট্টগ্রাম

খাগড়াছড়িতে আকস্মিক বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড়ধসের আশঙ্কা

Icon

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

খাগড়াছড়িতে আকস্মিক বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড়ধসের আশঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

আকস্মিক বন্যা হলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে হঠাৎ করে নদী বা পাহাড়ি ঝিরিতে পানির স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। সাধারণত উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় স্থানীয় এলাকায় বৃষ্টি না হলেও উজানের প্রবল বর্ষণের কারণে কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়।

খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীতে বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। দুঃখজনকভাবে, প্রায় প্রতিবছরই এ আকস্মিক ঢলে মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ বছরও চেঙ্গী নদীতে কাঠ তুলতে গিয়ে একজন চাকমা যুবক আকস্মিক বন্যার পানিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এরই মধ্যে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে জেলা সদর, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি শহরের শান্তিনগর, মুসলিমপাড়া, কলেজপাড়া, কালাডেভা, ইসলামপুর, শালবন ও মোহাম্মদপুর এলাকা এবং দীঘিনালার কবাখালী ও মেরুং এলাকার নিচু অংশ প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকাসহ মাইসছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা এবং পাহাড়ের ঢালে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে হাজারো পরিবার। যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড়ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত এক জরুরি বার্তায় বলেন, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবক দলও প্রস্তুত রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘মেসির পাশে সবাই থাকে, রোনালদোর সঙ্গে পর্তুগাল নেই’

‘মেসির পাশে সবাই থাকে, রোনালদোর সঙ্গে পর্তুগাল নেই’

চীনে ঘুষ নেয়ার দায়ে সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

চীনে ঘুষ নেয়ার দায়ে সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি

দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি

নোয়াখালীতে দুই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

নোয়াখালীতে দুই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App