চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বৈরী আবহাওয়া ও চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুটি আদেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের অধীন বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আরো পড়ুন : বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত প্রাথমিক শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ
টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে জুলাই মাসে এক দিনে সর্বোচ্চ।
ভারী বৃষ্টির কারণে দেয়াল ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি তিনটি ফ্লাইট। এছাড়া রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় আটকা পড়ে।
এদিকে দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে কক্সবাজার জেলা। গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ছোট-বড় ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার শতাধিক গ্রাম এখনো পানির নিচে রয়েছে।
