এক্সপ্লেইনার
মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল, আর্জেন্টিনার গোল কেন নয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর রেফারিং ও ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে মিসর। দলটির কোচ হোসাম হাসানের অভিযোগ, ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হলেও সেটি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হোসাম হাসান বলেন, হয়তো আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো ম্যাচের রেফারিকে ‘জালিম’ বলেও মন্তব্য করেন।
ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দুটি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। ইংলিশ ফুটবলের সাবেক সিলেক্ট গ্রুপ রেফারি ও সাবেক ভিএআর কর্মকর্তা অ্যান্ডি ডেভিস ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন মিসরের গোল বাতিল করা হয়েছে এবং কেন আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখা হয়েছে।
কেন বাতিল হয়েছিল মিসরের গোল
ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকো দুর্দান্ত এক গোল করে মিসরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে ভিএআরের হস্তক্ষেপে সেই গোল বাতিল করা হয়। কারণ, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ তৈরির সময় মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন।
ভিএআর ঘটনাটি পর্যালোচনা করে রেফারিকে মনিটরে গিয়ে ভিডিও দেখতে বলেন। রিপ্লে দেখার পর রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, আত্তিয়া একই সময়ে মার্তিনেজের জার্সি টেনে ধরেন এবং তার পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে গণ্য হয়। ফলে রেফারি ভিএআরের সুপারিশ মেনে গোল বাতিল করেন।
আরো পড়ুন : মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং গোল বাতিল—দুটি সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। তিনি বলেন, আত্তিয়ার স্পষ্ট ফাউলের কারণে আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সেই একই আক্রমণ থেকে মিসর গোল করে। নিয়ম অনুযায়ী এমন পরিস্থিতিতে গোল বাতিল করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি পেনাল্টি বক্সের বাইরে হলেও একই আক্রমণপর্বে সংঘটিত ফাউলের সরাসরি ফল হিসেবে গোল হলে সেটি বাতিল করার বিধান রয়েছে। তাই রেফারির সামনে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সুযোগ ছিল না।
আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে কেন ফাউল ধরা হয়নি
ম্যাচের শেষ দিকে মিসর দুটি ঘটনায় ফাউলের দাবি তোলে। এর একটি ঘটে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে, এনজো ফার্নান্দেজের গোলের আগে। প্রথম ঘটনায় আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মিসরের হামদি ফাতির জার্সি টানতে দেখা যায়। পরে ফাতি মাটিতে পড়ে গেলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন।
আরেক ঘটনায়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় ঢোকার সময় হুলিয়ান আলভারেস তাকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারি তাতেও কোনো পেনাল্টি দেননি।
ভিএআর দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অর্থাৎ কোনো ক্ষেত্রেই পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। ভিএআরের বিশ্লেষণে বলা হয়, ম্যাচের ওই সময় পরিস্থিতি বেশ জটিল ছিল। কারণ, কোনো সিদ্ধান্ত বদলানো হলে একদিকে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল হতে পারত, অন্যদিকে মিসর পেনাল্টিও পেতে পারত। তবে ভিডিও বিশ্লেষণে ম্যাক আলিস্টার ও আলভারেসের আচরণে এমন কোনো স্পষ্ট ভুল পাওয়া যায়নি, যা ভিএআরের হস্তক্ষেপের দাবি রাখে।
অ্যান্ডি ডেভিসও মনে করেন, ম্যাচের শেষ দিকে রেফারি ও ভিএআর সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। তার মতে, ম্যাক আলিস্টার ফাতির জার্সি টেনেছিলেন ঠিকই, তবে সেটি খুব অল্প সময়ের জন্য এবং এতে ফাতির বল পাওয়ার সম্ভাবনা বা আক্রমণে অংশ নেওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়নি। তাই সেটিকে পেনাল্টিযোগ্য ফাউল বলা যায় না।
অন্যদিকে সালাহর ঘটনায়ও পেনাল্টি না দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল বলে মত দেন তিনি। ডেভিস বলেন, ওই পরিস্থিতিতে সালাহ ফাউলের চেয়ে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টাই বেশি করেছেন। আলভারেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউল ছিল না। দুজনের বুট স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সঙ্গে লেগেছিল এবং খেলার গতির কারণেই সেই সংস্পর্শ তৈরি হয়।
দুই ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন
অনেকেই মিসরের বাতিল হওয়া গোলের আগের ফাউল এবং আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগের ঘটনাকে একইভাবে দেখলেও অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, দুটি পরিস্থিতি এক নয়। তিনি ব্যাখ্যা দেন, প্রথম ঘটনায় একজন ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন এবং জার্সিও টেনেছিলেন, যা পরিষ্কার ফাউল। কিন্তু সালাহর ঘটনায় দুই খেলোয়াড়ের বুটের মধ্যে স্বাভাবিক সংস্পর্শ হয়েছিল, যা খেলার গতির অংশ। তাই দুটি ঘটনার রেফারিং সিদ্ধান্ত ভিন্ন হওয়াই নিয়মসঙ্গত।
