রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০০ মানুষ
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ের মাটি ভেঙে পড়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত মাটি সরিয়ে নিলে ওই সড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় হ্রদ ও নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বাঘাইছড়ির কাচালং নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে বাঘাইছড়ি উপজেলা ও আশপাশের নিচু এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে প্রায় ৬ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাচালং নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে মাস্টার পাড়া, বটতলী, লাইল্যা ঘোনা, বাঘাইহাট, মাচালং ও মধ্যমপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়ক ও ঘরবাড়ি প্লাবিত করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক দুর্গতদের সহায়তায় সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বসতবাড়ির ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়া এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই ও কাউখালী উপজেলার ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
দুর্যোগ পরিস্থিতির বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি জেলা ও উপজেলাগুলোতে ইউএনওদের নেতৃত্বে আমাদের বেশ কয়েকটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলের কারণে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও আশা করছি বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় হবে না। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টিসহ পুরো জেলায় ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার ২৮টি স্থানকে পাহাড় ধসপ্রবণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।
