তিন বছরের শিশুর ভাড়া নিয়ে স্পিডবোট ঘাটে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে তিন বছরের এক শিশুর স্পিডবোট ভাড়া দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক যুবক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দড়িদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্পিডবোট ঘাটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার এক যাত্রীর সঙ্গে থাকা তিন বছরের এক শিশুর ভাড়া দাবি করেন স্পিডবোট চালক ইমরান। ঘাটের ইজারাদার ও দায়িত্বরত ব্যক্তিরা এত ছোট শিশুর ভাড়া না নেওয়ার কথা বললে ইমরানের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ইমরান ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাটের টোল আদায়কারী বাবুলের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে লঞ্চ টার্মিনালে দায়িত্বরত আরেক ব্যক্তি পরিস্থিতি শান্ত করে তাকে বাড়ির দিকে পৌঁছে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে পূর্বপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাদিরের দোকানে বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের ছোট ভাই আসাদুল্লাহ পূর্বপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থানসংলগ্ন মসজিদে নামাজ শেষে বের হলে ৭-৮ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয় এবং তার কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও ঘাটের লোকজন পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় গেলে তারা দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিপক্ষ রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় শরীফ নামে এক ব্যক্তি পিস্তল দিয়ে ৪ থেকে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে জাহাঙ্গীর আলম (৩২) নামে এক যুবকের তলপেটে গুলি লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও একজন মারধরের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় মরিচাকান্দি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াসিন বলেন, “দড়িদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি বাজারে স্পিডবোটের ভাড়া নিয়ে সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আসাদুল (২২)সহ দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
