নাঈমের মৃত্যুর পর বিক্ষোভ, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত ইরান
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নাঈম নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন দুই হত্যা মামলার অভিযুক্ত ও চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. নুরুল ইসলাম ওরফে ইরান (৪০)। এ ঘটনায় তার এক সহযোগী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ইরানের আত্মগোপনে থাকা বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে শামীম ও নাঈম নামে দুই যুবককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ জুলাই রাতে ইয়াবা হারানোর অভিযোগ তুলে নাঈমকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইরানের সহযোগীরা। এরপর তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার হাত-পায়ের নখ ও শরীরের চামড়া তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমকে তার বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নাঈমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শনিবার রাতে জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ ইরান ও তার সহযোগীদের খুঁজতে বের হন। প্রথমে ইরানকে না পেয়ে তার এক সহযোগীকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
পরে গভীর রাতে খবর পাওয়া যায়, পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় একটি ঘরে আত্মগোপনে রয়েছেন ইরান। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘর থেকেই তিনি ইয়াবা কারবার পরিচালনা করতেন। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘরটি ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তারা ইরানকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ক্ষুব্ধ জনতা বসতঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, "ইরান চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং দুই হত্যা মামলার আসামি। সর্বশেষ নাঈম নামে এক যুবকের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালালেও এর আগেই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।"
তিনি আরো বলেন, "গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ইরানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার আহত সহযোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
