উপজেলা সদর দপ্তরের দাবিতে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে শুরু হয়েছে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। হরতালের প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক।
রোববার (২৬ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে এই কর্মসূচি শুরু করে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ।
হরতালের কারণে খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক, মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়ক এবং হেঁয়াকো-চট্টগ্রাম সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আরো পড়ুন: নাঈমের মৃত্যুর পর বিক্ষোভ, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত ইরান
সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হরতাল সমর্থকরা নারায়ণহাট, দাঁতমারা, হেঁয়াকো ও বাগানবাজার এলাকায় অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে বালুবাহী ট্রাক ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করেন তারা।
ঢাকা ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ থাকায় সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তরের জন্য নির্ধারিত স্থানটি অধিকাংশ মানুষের জন্য সুবিধাজনক নয়। তারা দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকায় সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সমন্বয় পরিষদের নেতারা।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বলেন, "হরতালের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে।"
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই ফটিকছড়ি উপজেলা ভেঙে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে উত্তরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর আগে তারা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। বর্তমানে সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করা হচ্ছে।
