কলাপাড়া হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ হারিচ আহম্মদ মজিবুর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোরে র্যাব-৮, পটুয়াখালী এবং র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৮-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন, কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে মো. ছারোয়ার (৩৫) এবং একই এলাকার মৃত মোজাহারের ছেলে মো. সালেক (৪০)।
কামরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জুলকুড়ি উত্তরপাড়া এলাকা থেকে সালেককে এবং র্যাবের পূর্বাচল ক্যাম্পের সহায়তায় ঢাকার গুলশান থানার আজাদ মসজিদ এলাকা থেকে মো. ছারোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ১৯ জুলাই বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে খলিল মিয়া, ছলেমান, রবিউল ইসলাম, মিজানুর ও ফেরদৌসের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল বৃদ্ধ হারিচ আহম্মদকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং মাটিতে পুঁতে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় তাকে উদ্ধার করতে গেলে পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় চৌকিদার ও আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হারিচ আহম্মদকে প্রথমে আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে ২১ জুলাই মহিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় খলিল মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিম হাওলাদার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির মধ্যে একজনকে ইতোমধ্যে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর আসামিকে ঢাকা থেকে কলাপাড়ায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
