মেঘনায় টেঁটাযুদ্ধে প্রাণহানির ঘটনায় ৪ জন গ্রেফতার
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ফাইল ছবি
কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাসের দুই গ্রামের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধে এক নারী নিহতের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে মেঘনা থানা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মো. হান্নান (২৬), মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মাইনুদ্দিন (৪০), মৃত ছমির উদ্দিন বেপারির ছেলে কাশেম বেপারী (৬০) ও আমান উল্লাহর ছেলে মো. রানা (২১)।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আসে। সেখানে চরবিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজনের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে নিজেদের মারধর করে আটকে রাখা হয়েছে বলে প্রচার চালান।
তবে ঘটনার প্রকৃত চিত্র ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এ ঘটনার জেরে বিকেলে আলীপুর ও চরবিনোদপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। এ সময় চরবিনোদপুর গ্রামের কুহিনূর আক্তার (৩৮) গলায় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ প্রস্তুত করছেন বলে জেনেছি। অভিযোগ পেলে হত্যা মামলা রেকর্ড করে এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল হক বলেন, চরভাটেরা এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। একই সঙ্গে মেঘনা থানা এলাকাতেও পুলিশ মোতায়েন আছে।
