জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাসের সংকট কমবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আগামী সপ্তাহ থেকে দেশে চলমান গ্যাস সংকট কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণেই বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং সেটি দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে জনদুর্ভোগ তৈরি হওয়ায় সরকার আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে এটি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সমস্যার কারণে হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সংকট নিরসনে কাজ করছে। তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে এর তীব্রতা বেড়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে, আর বাকি অংশ আমদানি করা এলএনজি।
আরও পড়ুন: লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল
তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদনে কোনো সমস্যা নেই। তবে এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্রথমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশা করা হলেও পরে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ এনে মেরামত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৫০ শতাংশ স্বাভাবিক হবে এবং তার পরের সপ্তাহে পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এফএসআরইউর বয়লারে বিস্ফোরণের কারণে এই ত্রুটি সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা উন্নত না হলে নতুন বিনিয়োগ সম্ভব নয়
গ্যাস সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সরকার বিকল্প উৎস ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় সরবরাহের উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে আরও স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি খাতের উন্নয়ন না হওয়ায় বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে এবং অতীতের নীতিগত দুর্বলতার প্রভাব এখনও বহন করতে হচ্ছে।
