বিয়ে করে যে বার্তা দিলেন খাসি কাণ্ডে বিয়ে ভাঙা সেই জাপানপ্রবাসী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
খাবারে খাসির মাংস নিয়ে বিরোধের জেরে বিয়ের আসর ছেড়ে চলে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই আলোচিত জাপানপ্রবাসী মো. জুনায়েদ শেষ পর্যন্ত বড় খাসি দিয়েই নিজের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টায় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বিয়ের ছবি পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।
মো. জুনায়েদ কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’
জানা গেছে, জুনায়েদ মিয়ার বর্তমান স্ত্রীর নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জান্নাত।
এদিকে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে। জুনায়েদ মিয়ার বাড়িও একই গ্রামে। নতুন বিয়েতে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে আস্ত খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে যান জোনায়েদ। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা হয়।
আরো পড়ুন: খাসির মাংস নিয়ে বিবাদ শুরু, বরযাত্রী এসেও ফিরল বিয়ে না করেই
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, ঘটনার সূত্রপাত কনের বাড়িতে বরপক্ষের খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছালে বর জুনায়েদকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে বরপক্ষের জন্য খাবার পরিবেশন করা হয়।
কনেপক্ষের দাবি, খাবারে খাসির মাংস না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান এবং খাসি ছাড়া খাবেন না বলে অবস্থান নেন। এমনকি খাসির মাংস না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত স্বজনরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কনের পরিবারের দাবি, জুনায়েদ হবু স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি কনের বাবা শফিক মিয়ার কানে গেলে তিনি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
মেয়েকে এমন একজনের সঙ্গে বিয়ে দিলে ভবিষ্যতে তার নিরাপত্তা ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে শেষ পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শফিক মিয়া। ফলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার আগেই বরকে কনের বাড়ি থেকে ফিরে যেতে হয়।
তবে এই ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে একমত নন বর জুনায়েদ। গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, খাসির মাংস নয়, মূল বিরোধ ছিল কাবিনের টাকা নিয়ে।
জুনায়েদের দাবি, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনের পক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তিনি ও তার পরিবার ওই দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কনের জন্য নিয়ে যাওয়া লাগেজও ফেরত দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ আরো দাবি করে বলেন, কনের সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং পরে তাকে বিয়েতে রাজি হওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি আর রাজি হননি। এমনকি তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগকে মিথ্যা ও সম্মানহানির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন এই প্রবাসী বর।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত কাবিন দাবির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন কনের বাবা শফিক মিয়া। তার ভাষ্য, খদরে খাসির প্রয়োজনীয়তার কথা আগে জানানো হলে তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাকে আগে কিছুই বলা হয়নি।
শফিক মিয়া বলেন, খাসির বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলার পরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই জুনায়েদকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি। পরে তার আচরণ ও মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাই মেয়ের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়ার ভাষ্যও কনের পক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর বরকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। পরে অশালীন আচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠায় কনের বাবা মেয়েকে ওই বরের সঙ্গে বিয়ে দেননি। শেষ পর্যন্ত বরকে বিয়ে না করেই ফিরে যেতে হয়েছে।
