খাসির মাংস নিয়ে বিবাদ শুরু, বরযাত্রী এসেও ফিরল বিয়ে না করেই
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের সব আয়োজন শেষ, বরযাত্রীও পৌঁছে গিয়েছিল কনের বাড়িতে। ফুল দিয়ে বরণও করা হয়েছিল বরকে। কিন্তু খাসির মাংস নিয়ে আপত্তি থেকে শুরু হওয়া বিরোধ গড়ায় কাবিন ও হবু স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে। শেষ পর্যন্ত মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কনের বাবা।
এমন ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলের এ ঘটনায় জাপানপ্রবাসী বর মো. জুনায়েদ বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান। তিনি পাশের কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
ঘটনার শুরু খদরের খাবার নিয়ে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বর জুনায়েদকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার পরিবেশন করা হয়। কনেপক্ষের দাবি, সেখানে খাসির মাংস না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান এবং খাসি ছাড়া খাবেন না বলে অবস্থান নেন। এমনকি খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বাবার জেদ, মায়ের ত্যাগ: ১৩ মেয়ের ৮ জনই স্কুলের শিক্ষক
এ সময় উপস্থিত স্বজনরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি একপর্যায়ে অন্যদিকে মোড় নেয়। কনের পক্ষের দাবি, জুনায়েদ হবু নববধূকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্য কনের বাবা শফিক মিয়াও শুনে ফেলেন।
এরপর বিষয়টি আর খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মেয়েকে এমন একজনের সঙ্গে বিয়ে দিলে ভবিষ্যতে তার নিরাপত্তা ও সংসারজীবন নিয়ে কী হতে পারে, তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন শফিক মিয়া। শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়েকে ওই বরের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার আগেই বরকে কনের বাড়ি থেকে ফিরে যেতে হয়।
তবে ঘটনার এই বর্ণনার সঙ্গে একমত নন বর জুনায়েদ। মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, খাসির মাংস নয়, মূল বিরোধ ছিল কাবিনের টাকা নিয়ে।
জুনায়েদের দাবি, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনের পক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তিনি ও তার পরিবার ওই দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কনের জন্য নিয়ে যাওয়া লাগেজও ফেরত দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ আরও দাবি করেন, কনের সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং পরে তাকে বিয়েতে রাজি হওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি আর রাজি হননি। এমনকি তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগকে মিথ্যা ও সম্মানহানির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন এই প্রবাসী বর।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত কাবিন দাবির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন কনের বাবা শফিক মিয়া। তার ভাষ্য, খদরে খাসির প্রয়োজনীয়তার কথা আগে জানানো হলে তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাকে আগে কিছুই বলা হয়নি।
শফিক মিয়া বলেন, খাসির বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলার পরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই জুনায়েদকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি। পরে তার আচরণ ও মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাই মেয়ের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়ার ভাষ্যও কনের পক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর বরকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। পরে অশালীন আচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠায় কনের বাবা মেয়েকে ওই বরের সঙ্গে বিয়ে দেননি। শেষ পর্যন্ত বরকে বিয়ে না করেই ফিরে যেতে হয়েছে।
