চাকরি পাচ্ছেন ‘ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া’ সেই যুবক
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:০৩ পিএম
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ‘ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া’ আলমগীর কবির
চাকরি পাচ্ছেন শুধু ‘দুই বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া’ যুবক আলমগীর (৩২)। আজ বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী।
তিনি বলেন, আলমগীরের ওই বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করার জন্য তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কথা বলে মনে হয়েছে, তার আসলেই চাকরি প্রয়োজন। ওই ধরনের বিজ্ঞাপন দেয়া যে হীন মানসিকতার পরিচয়, সে বিষয়ে তাকে বুঝিয়েছি।
এসপি সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, আলমগীরকে আমার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি। তিনি তার হতদরিদ্র পরিবারের শোচনীয় অবস্থার কথা জানান। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন বলে মনে হয়নি। তার সম্পর্কে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি। তার মুঠোফোনের কলরেকর্ডসহ সবকিছু তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এসপি আরও বলেন, আলমগীরকে চাকরি দেয়ার জন্য সুপার শপ ‘স্বপ্ন’, স্কয়ারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমার মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে। এর মধ্যে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দিতে সাক্ষাৎকার নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্বপ্ন’। আজই তারা আলমগীরের চাকরির বিষয়ে জানাবে।
তবে চাকরি পাওয়ার বিষয়ে আলমগীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না’।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, আলমগীরের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আসলেই ছেলেটা হতদরিদ্র। চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকেই দুই বেলা ভাতের জন্য ওই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি এটা করেননি।
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা আলমগীর সপ্তাহখানেক আগে শহরের জহুরুল নগরের বাড়ির প্রাচীর ও বিদ্যুতের খুঁটিতে কয়েকটি পোস্টার সাঁটান। তাতে তিনি নিজের পরিচয়ে লেখেন ‘বেকার’। দুই বেলা ভাতের বিনিময়ে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতে চান তিনি। অল্প সময়ে এই বিজ্ঞাপন ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
